গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানের দিকে ৭১টি যুদ্ধবিমান ও ৭টি জাহাজ পাঠিয়েছে চীন। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এবিসি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়য়, এটিকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রদর্শন হিসাবে দেখা হচ্ছে। ৭১টি চীনের যুদ্ধ বিমানের মধ্যে ছিল ১৮টি 'জে-১৬', ১১টি 'জে-১ ফাইটার', ছয়টি 'এসইউ-৩০ ফাইটার' ও ড্রোন।
তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪৭টি চীনের যুদ্ধ বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে। তারা স্থল-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব নৌযানের মাধ্যমে চীনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।
এসব যুদ্ধ বিমান মহড়ার বিষয়ে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে চীন জানিয়েছে, তারা তাদের শাসিত দ্বীপের (তাইওয়ান) চারপাশে সমুদ্র ও আকাশে যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল এবং যৌথ ফায়ারপাওয়ার স্ট্রাইক ড্রিল পরিচালনা করেছে।
তবে পিপলস লিবারেশন (পিএল) আর্মি জানিয়েছে, মহড়াটি ছিল বর্তমান মার্কিন-তাইওয়ান উত্তেজনা ও উস্কানির একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া।
পিএলএর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র শি ই রোববার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, চীন মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ বলে অভিহিত করেছে। এই আইনটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাইওয়ানের সঙ্গে বর্ধিত নিরাপত্তা সহযোগিতার অনুমোদন দেয়।
ধারনা করা হচ্ছে, সম্প্রতি অনুমোদিত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে তাইওয়ান সম্পর্কিত বিধানের কারণে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাইওয়ানের সঙ্গে বর্ধিত নিরাপত্তা সহযোগিতা অনুমোদন করে ৮৫৮ বিলিয়ন প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল স্বাক্ষর করেছেন। এরপরই চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টরা চীনে ক্ষমতা দখল করার পর, তাইওয়ান মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে তাইওয়ান তার নিজস্ব সরকার দ্বারা শাসিত হয়। তবে বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে আসছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন সোমবার স্থানীয় সময় সকালে একটি সামরিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেন, 'স্বৈরতন্ত্রের ক্রমাগত সম্প্রসারণের কারণে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমরা যত বেশি প্রস্তুত হব, আক্রমণের চেষ্টা তত কম হবে। আমরা যত বেশি ঐক্যবদ্ধ হব, তাইওয়ান তত শক্তিশালী ও নিরাপদ হবে।'