বায়ুদূষণে হুমকিতে চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, অবৈধ ইটভাটা, কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গাড়ির কালো ধোঁয়াসহ নানা কারণে চট্টগ্রামে বায়ুদূষণ বাড়ছে। বায়ুদূষণের জন্য নগরীর স্টিল রি-রোলিং মিল ও সিমেন্ট কারখানাগুলোও দায়ী। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন- লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, আউটার রিং রোড, বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে দিনরাত কাজ চলছে। এসব এলাকার বাতাসে সারাক্ষণ ক্ষতিকর ধূলিকণা ভাসে। এ কারণে এলাকার বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সবগুলো প্রকল্পেরই পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। সেই অনুযায়ী এসব এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিকাদাররা এই শর্ত পালন করেন না। অন্যদিকে, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল জরিমানা করে দায়িত্ব শেষ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিকবার জরিমানা দিয়েও বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে।  

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের বাতাস এখন অস্বাস্থ্যকর। বাতাসের মান পরিমাপের জন্য নগরীর আগ্রাবাদ, ফয়’স লেক ও নাসিরাবাদে পরিবেশ অধিদপ্তরের তিনটি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রামের বাতাসের মান স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে নয় বলেই দেখানো হচ্ছে। শীতকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাতাসের মান আরো নেমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে পাহাড়, গাছপালা ও সমুদ্র পরিবেষ্টিত হওয়ায় বায়ুদূষণ কম হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে এই নগরীতে বায়ুদূষণ চরম অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বায়ুদূষণের কারণে চট্টগ্রামবাসীর গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। 

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাতাসে ক্ষতিকর উপাদান বা সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটরিয়ালস (এসপিএম)-এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা ২০০-এর নিচে থাকার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে এই মাত্রা অনেক বেশি। বৃষ্টিপাতের অভাবে শীতকালে বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। আবার বর্ষাকালে বায়ুদূষণ কম থাকে। দূষণের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের পরিবেশ ও বায়ু এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে, স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াও কখনো কখনো কষ্টকর হচ্ছে। ধুলার কারণে বিবর্ণ হয়ে পড়ছে রাস্তার পাশের সব গাছপালা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাড়ছে ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিসের মতো মারাত্মক রোগব্যাধি। বায়ুদূষণের কারণে মানুষের শরীরে ক্ষতিকর রোগ ছাড়াও ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজসহ (সিওপিডি) বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। দূষণের কারণে মানসিক অস্থিরতা, বিষণ্নতা ও হতাশা বাড়ছে। একসময়ের সবুজ ও সতেজ শহরে গাছপালা মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে।