উইঘুরদের চীনা নির্বাসন বন্ধের আহ্বান পূর্ব তুর্কিস্তানের সরকারের

ইটিজিই এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাসনে থাকা পূর্ব তুর্কিস্তান সরকার তুরস্কের সরকারকে উইঘুরদের গ্রেফতার ও নির্বাসন বন্ধ করার জন্য এবং এ বিষয়ে চীনের সাথে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ইটিজিই হলো একটি সংসদ-ভিত্তিক গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অফিসিয়াল সংস্থা যা মূলত উইঘুর, কাজাখ এবং পূর্ব তুর্কিস্তানের অন্যান্য জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এর সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডি.সি. তে অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পূর্ব তুর্কিস্তানের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।

তুরস্কের একেপি-এর নেতৃত্বাধীন সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে তারা উইঘুরদের অধিকার "রক্ষা করছে"। যদিও মূলত তারা চীনের সাথে বুদ্ধিমত্তা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। ২০১৭ সালে বেইজিং-এ তুর্কি-চীনা যৌথ প্রেস কনফারেন্সের সময় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেছিলেন, "আমরা চীনের নিরাপত্তাকে আমাদের নিজস্ব হিসাবেই দেখি এবং আমরা আমাদের দেশে বা আমাদের অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক কার্যকলাপের অনুমতি দিই না। একইভাবে, আমরা চীনের বিরুদ্ধে প্রকাশনা সহ সব ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধ করি। আমি এটা দেখেও আনন্দিত যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে। আগামী সময়ে এই সহযোগিতা আরো বাড়বে বলে আশা করছি।"

২০২১ সালের মার্চে, তুরস্কের ক্ষমতাসীন একেপি সরকার তুরস্কের গ্র‍্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলিতে পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ এবং অন্যান্য তুর্কি জনগণের বিরুদ্ধে চীনের চলমান অত্যাচারের প্রস্তাবকে দমন করে যা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়। তুরস্ক ও চীনের মধ্যকার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বেড়েই চলেছে।

২০২২ সালের ৩ নভেম্বর, চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী ডু হ্যাংওয়েই, তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু এবং তুরস্কের অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নির্বাসন বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান রামাজান সেসিলের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের পর, ইস্তাম্বুলের বেশ কয়েকজন উইঘুরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাদের আটক শিবিরে নির্বাসিত করা হয়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী পূর্ব তুর্কিস্তানি বা উইঘুর প্রবাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। 

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু নির্বাসনের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযোগটিকে মিথ্যা বলেছেন।

নির্বাসিত পূর্ব তুর্কিস্তান সরকারের ডাঃ মামতিমিন আলা বলেন, "শত শত পূর্ব তুর্কিস্তানি এবং উইঘুরদেরকে তুরস্কের চারপাশে নির্বাসন বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা তুর্কিকে উইঘুর বন্দীদের মুক্ত করার এবং পূর্ব তুর্কিস্তানি বা উইঘুরদের চীন বা অন্য কোনো দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।"

পূর্ব তুর্কিস্তান সরকারের নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী, সালেহ হুদায়ার বলেন, "আমরা আবারো তুর্কি সরকারকে উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনের চলমান গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে উইঘুর অধিকারের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে আন্তরিকতা প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। পূর্ব তুর্কিস্তানের অন্যান্য তুর্কি জনগণ, পূর্ব তুর্কিস্তানকে একটি অধিকৃত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পূর্ব তুর্কিস্তান ও এর জনগণদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চীনের সাথে সমস্ত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ করার জন্যেও আহ্বান জানাচ্ছি।"

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করে। যার ফলে অনেক পূর্ব তুর্কিস্তানি সিনিয়র সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা সোভিয়েত ইউনিয়নে পালিয়ে যায়।