কাজ ও বিশ্রাম

 

কাজ যেমনই হোক তা মানুষের জীবনের অনেক বড় একটা স্থান জুড়ে আছে। তবে তার মানে এই নয় যে, অতিরিক্ত কাজ করা বাধ্যতামূলক। যেসব মানুষ প্রয়োজনের বেশি কাজ করে তারা তাদের স্বাধীন সময়টুকু ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। তাদের মধ্যে ত্যাগস্বীকারের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাপারটি পরিবর্তন করা উচিত।

আমরা মনে করি, পরিবর্তনের কথা চিন্তা করা আর পরিবর্তন করা দুই ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা তা না। সেই ব্যাপারে অর্থাত্ কাজ ও বিশ্রামের মাঝে সমতা করার জন্য আমাদের আজকের এই আয়োজন। আশা করি আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে।

নিজের লক্ষ সম্পর্কে সচেতনতা, কিছু মানুষ এমন থাকেন যারা জানেন না যে তারা যে কাজ করছেন তা করার কারণ কী। কিসের আশায় তারা এত পরিশ্রম করছেন। তখনই প্রশ্ন জাগে আপনি কি আপনার পছন্দের পথ বেছে নিয়েছেন? যদি এর উত্তর ‘না’ হয়ে থাকে তবে প্রশ্ন হলো কী করতে চান এবং ভেবেছেন কি তা কীভাবে করবেন? ৮০০০ জনের একটা জরিপে দেখা গেছে, সেসব মানুষেরা খুব সুখী যারা প্রতিদিন যে কাজ করে তা তাদের পছন্দানুযায়ী বেছে নেওয়া। কথাটি সত্যি, মানুষ যা করে তাতে যদি আনন্দ পায় তবে কাজে উন্নতি হয় এবং সেই সঙ্গে মনও থাকে প্রফুল্ল।

ভেবে চিন্তে, আমারা সব সময় সুখের পিছনে ছুটছি। কাজের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেছি। গবেষকরা মনে করেন আমাদের জীবনের এই শত ব্যস্ততার মাঝে কিছু সময় নিজের জন্য রাখা উচিত। সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে আসল জীবনকে ভুলে যাওয়াটা বোকামিমাত্র। এ জন্য আমাদের উচিত নিজেদের জন্য সময় বের করা। যেমন, সিডিউল করা যেতে পারে নিজের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় বের করার। অথবা, কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় বের করে পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে অন্তত ফোনে হলেও যোগাযোগ রাখা। কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্লান করা যেতে পারে। আর সেটাকে অবহেলা না করে বিজনেস মিটিংয়ের মতো করে ভাবলে ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়।

l এমনটা করা যেতে পারে যে প্রিয় মানুষের ছবি মানিব্যাগে রাখা অথবা টেবিলে ফটো ফ্রেমে বন্দি করে রাখা। এই সূক্ষ্ম কাজগুলো আমাদের মনের ইন্দ্রিয়কে শত ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম দিতে পারে।

l দিনের শেষে কিছু সময় বের করে সাময়িকী পড়ার অভ্যাস করে তুলতে পারলে তা মানসিক সতেজতা ধরে রাখতে অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে করে প্রত্যহ সব কাজ সফলতার সঙ্গে শেষ করার একটা অনন্দ কাজ করে। আর মন ভালো থাকলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মনখুলে মেশাও সহজ হয়ে যায়। আর সেই সঙ্গে তা কাজে লাগে আমাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে।

l অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ আমাদের জীবন-মরণের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই যদি কেউ খুব কঠিন সময় পার করে আর একা যদি পরিস্থিতি মোকাবেলা তার পক্ষে সম্ভব না হয় তবে অন্য কারও সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ার করা উচিত। একইভাবে এই সমস্যার সমাধান বই পড়েও করা সম্ভব। অর্থাত্ মূল কথা হলো, অতিরিক্ত কাজের চাপে নিজেকে পিষ্ট হতে না দিয়ে নিজের জন্য কিছুটা বিশ্রাম মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে নেওয়া গেলে জীবনটাকে আরো সহজভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করা যায়।