সতেজতার পরশে

দিনের খুব কম সময় বাথরুমে থাকতে হলেও রুমটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই জায়গাটি যদি একটু অপরিচ্ছন্ন আর অগোছালো হয় তাহলে দেখবেন পুরোটা দিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকছে। আপনার বাথরুম কিভাবে সুন্দর করে সাজাতে পারেন ও সতেজ রাখতে পারেন, সেই পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

 

আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবরা বাসায় এলে ফ্রেশ হতে কেউ কেউ বাথরুমে যায়। আর যেয়ে যদি দেখে ঝকঝকে বাথরুম, তাতে আবার চোখ জুড়ানো ইন্টেরিয়র তাহলে আপনার সম্পর্কে তার ধারণাটাই অনেক উঁচু হয়ে যাবে। তাই শুধু লিভিং বা ড্রইংরুমই নয়, আপনার ফ্রেশরুমের প্রতিও একটু মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইন্টেরিয়র। আপনার ড্রইংরুম, বেডরুম, রিডিংরুম, কিচেন ইত্যাদির মতো আপনার বাথরুমও সমান গুরুত্ব রাখে। একান্তই ব্যক্তিগত এই জায়গাটুকু প্রতিটি মানুষ ব্যবহার করতে চায় নিজের মতো করে। আর তাই নিজের রুচি ও পছন্দের সঙ্গে মিল রেখে আপনার বাথরুমটি যেন হয়ে ওঠে আপনার ব্যক্তিগত অভিরুচির পটপ্রকল্প। ঘরের সার্বিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আপনার স্নানঘর, অর্থাত্ বাথরুমটিকে সাজাতে হবে। আপনার একটু সদিচ্ছা আর কিঞ্চিত্ খরচের মানসিকতা আপনার বাথরুমটিকে সাজিয়ে তুলতে পারে মনের মতো করে। সময়ের ব্যবধানে বাথরুমের ডিজাইন, আকার, আয়তন, ডেকোরেশন পরিবর্তিত হচ্ছে। তেমনি ব্যবহারকারীর বয়সভেদে বাথরুমের চেহারা ভিন্নতর হয়ে থাকে। তবে এই পার্থক্যটা সবচেয়ে বেশি হয় ছেলে আর মেয়েদের বাথরুমের মাঝে। সাধারণত ছেলেদের বাথরুমে যে ধরনের সাজসজ্জা থাকে, মেয়েদের বেলায় তেমনটি হয় না। মেয়েদের স্নানঘরটি আকৃতিতে একটু বড় আর গোছানো হওয়া প্রয়োজন। বাড়ির গিন্নি যে বাথরুমটি ব্যবহার করবেন, সেটি অবশ্যই বেডরুমের সঙ্গে হওয়া উচিত। এছাড়া যদি মহিলাদের সবার জন্য একটা বাথরুম হয় তাহলে সেটা কিচেনের পাশে হতে পারে। কিংবা বেডরুম ঘেঁষে তৈরি হওয়া উচিত। পুরুষদের বাথরুম যেকোনো জায়গাতেই হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের বেডরুমের সঙ্গে না হয়ে ডাইনিংয়ের সঙ্গে হলে তা কমন বাথরুম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে ছেলেদের স্নানঘরে আয়না বসানো বেসিন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা অনেক সময় শেভিংয়ের কাজে ব্যবহূত হয়। স্নান ঘরটিকে অনেকে আলো-আঁধারিতে রাখতে পছন্দ করেন। অপর দিকে যেহেতু এই ঘরটিতে জানালাটা উঁচুতে অবস্থান করে তাই আলো ঘরের নিচ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। এ জন্য আলো যাতে সহজে চলাচল করতে পারে সে উদ্দেশ্যেই স্নানঘরে বড় জানালা তৈরি করতে পারেন। ঘোলাটে কাচ ব্যবহার করলেই ভেতরটা নিরাপদ রাখা যাবে। বাথরুমে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের সময় অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন প্রতিটি বাল্বের উপরে আলাদা প্লাস্টিক কিংবা কাচের খোলস লাগানো আছে কি না। কারণ গোসলের সময় পানির ফোঁটা পড়ে জ্বলন্ত বাল্ব মুহূর্তেই ফেটে চুরমার হয়ে যেতে পারে। আজকাল লোডশেডিংয়ের প্রকোপ বেশি হওয়ায় বাথরুমে অবশ্যই মনে করে একটি মোমদানি রাখতে পারেন। স্নানের জায়গাটুকু বাদে বাকি অংশ শুষ্ক রাখতে চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে পাওয়ার কিউব কিনে বসিয়ে নিতে পারেন অথবা বাথরুম বড় হলে কাঁধ পর্যন্ত দেয়াল তুলে দিন। এতে স্নানের জায়গাটুকু অন্য অংশ থেকে পৃথক থাকবে। টয়লেটের ফ্লাশ সম্পর্কে একটা কথা বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন, এটা নষ্ট হলে কিন্তু টয়লেট ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। বাথরুমের টাইলস এবং ফিক্সচারের রং ব্যবহার করলে সেই সব রঙের ছোঁয়া রাখুন সাবানদানি, টুথব্রাশ র্যাক এবং সম্ভব হলে টাওয়ালেও। টাওয়াল রাখার রেল অন্তত দুটি রাখুন। এগুলো সবসময় পরিষ্কার রাখুন। নইলে মরচে পড়া রেলের দাগ পড়ে যাবে টাওয়ালে কিংবা কাপড়ে। প্লাস্টিকের ঢাকনাযুক্ত বালতি রাখুন টয়লেটের এক কোনায়। এটা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। টিস্যু পেপারের প্যাক সবসময় পরীক্ষা করে দেখুন, শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আবার টিস্যু রাখতে পারেন। বাথরুমে আয়না বসিয়ে নিন। সম্ভব হলে একপাশে দেয়ালজুড়ে আয়না বসাতে পারেন। আর এই আয়না পরিষ্কার রাখতে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে শুধু পরিষ্কার পানি আর নিউজপ্রিন্টের কাগজ ব্যবহার করেও এই কাচ পরিষ্কার করতে পারেন। বাথরুমকে ফ্রেশ রাখতে এক্সহস্ট ফ্যান লাগানো উচিত। বাথরুমের দরজা সাউন্ডপ্রুফ হওয়া চাই। বড় আয়তনের হলে বাথরুমে টবে গাছ রাখা যেতে পারে। তবে টবটা সরাসরি ফ্লোরে না রেখে বাঁশ কিংবা বেতের ঝুড়িতে ভরে রাখা যেতে পারে। নইলে ফ্লোরে দাগ বসে যেতে পারে।