ফ্রান্সে কম বয়সী পুরুষদের বিনামূল্যে কনডম

সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। সেখানে ২৫ বছর বা তার থেকে কম বয়সীদের বিনা পয়সায় কনডম দেয়া হবে। এইচআইভি ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোধ করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃত্ব বন্ধ করতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। 

সরকার প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলেদের বিনা পয়সায় কনডম দেয়া হবে। কিন্তু পরে বিতর্ক দেখা দেয় এবং প্রশ্ন ওঠে, ১৮ এর কম বয়সীদের কেন কনডম দেয়া হবে না? তারপর নিচের সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। 

সরকার প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলেদের বিনা পয়সায় কনডম দেয়া হবে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে এই ফ্রি কনডম দেয়া। রোববার থেকেই ওষুধের দোকানে গেলে বিনা পয়সায় কনডম পেয়ে যাচ্ছেন ২৫ বছর বা তার কম বয়সীরা।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো জানিয়েছেন, ফ্রান্স যৌন শিক্ষার ক্ষেত্রে খুব একটা ভালো কাজ করছে না। তত্ত্বের তুলনায় বাস্তব অবস্থাটা একেবারেই আলাদা। তাদের শিক্ষকদের ভালো করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের আবার পুরোটা ভালো করে বোঝাতে হবে।

 

ছেলে বা মেয়েরা এই কনডম নিতে পারবে, তবে বিনা পয়সায় পুরুষদের কনডমই দেয়া হবে। ফ্রান্সে কিছু মিডল ও হাই স্কুলে কনডম বিনা পয়সায় দেয়া হয়। 

ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ বরেল বলেছেন, 'কনডম দেয়ার ক্ষেত্রে নিচের দিকে বয়সের কোনো সীমা নেই। তবে ছয় বছর বয়সী কোনো ছেলে যদি এই কনডম চায়, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তাকে দেব না।'

ফ্রান্সে কিছু মিডল ও হাই স্কুলে কনডম বিনা পয়সায় দেয়া হয়। 

ফ্রান্সে ২০২১ সাল থেকে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার। পাবলিক হেলথ ফ্রান্স জানাচ্ছে, ২০২১ সালে যে পাঁচ হাজার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশের বয়স ২৬ বছরের কম।

এখন এইচআইভির আধুনিক ওষুধ বেরিয়েছে। এইচআইভি নিয়ে অনেকে বাকি জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। গত বছর থেকে ফ্রান্সে এইচআইভি পরীক্ষা বিনা পয়সায় করা যাচ্ছে এবং এর জন্য চিকিৎসকের সার্টিফিকেট দরকার হচ্ছে না। গত বছর থেকে ২৫ বছর বা তার কম বয়সী মেয়েদের জন্য জন্মনিরোধ ক্যাপসুল বিনা পয়সায় দেয়া হচ্ছে।