বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন হয়েছে দুই দিন। কিন্তু এখনো মেলার বেশির ভাগ স্টলের নির্মাণকাজই পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে এই স্টলগুলোতে এখনো পণ্য বিক্রি শুরু হয়নি। মেলায় কিছু দর্শনার্থী এলেও তারা মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখছেন। আড্ডা দিচ্ছেন।
গতকাল সোমবার সরেজমিন রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলায় এই চিত্রই দেখা যায়। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারের (বিবিসিএফইসি) ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন। মাসব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই মেলা শুরুর পর প্রথম কয়েক দিন স্টলগুলোর সাজসজ্জা করতে চলে যায়। পরে ধীরে ধীরে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ কিছু স্টলে মিস্ত্রিরা কাজ করছেন। তারা এতটাই ব্যস্ত যে, কথা বলার ফুরসত নেই। দেশীয় অনেক স্টলের পাশাপাশি অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টলের নির্মাণকাজও এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের স্টলও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মেলা শুরুর এক মাস আগে স্টল ও প্যাভিলিয়নের বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা সম্ভব। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেলার সব স্টলের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তারা জানান।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার মেলার পরিসর বেড়েছে। গত বছর ২২৫টি স্টল থাকলেও এবার মেলায় মোট স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৪৮৩। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১২, মিনি প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১২৮ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টলের সংখ্যা ২৪৩। এর মধ্যে বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি এবং বিদেশি প্রিমিয়ার স্টলের সংখ্যা ১৭। মেলায় ২১টি দেশ অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, দুবাই, ইতালি ও তাইওয়ান।
মেলায় দেশীয় স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার ও হোম অ্যাপ্লাইয়েন্স পণ্যের স্টল যেমন আছে, তেমনি বিদেশি কাপড়, কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টলও রয়েছে। গতকাল মেলায় কথা হলো ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যার নামে ভারতীয় স্টলের কর্মী তপন চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই মেলায় পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, মেলায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য গতবারের মতো এবারও শাটল সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে এক্সিবিশন সেন্টার পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ৭০টি বিআরটিসি বাস চলাচল করছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলার গেট খোলা থাকবে। এবার মেলায় প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলার টিকিট অনলাইনে কিনলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ থাকছে।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এখানে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন আছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জন্য ট্রাফিক পুলিশও এখানে কাজ করছে।