পুরাতন পিসির কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

প্রযুক্তির আপডেটের সঙ্গে সঙ্গে আপনিও আপডেট হতে শুরু করেছেন নিশ্চই। হয়তো আপনি অনেক বছর ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করে আসছেন। এর পরে এটিকে বিভিন্ন সময়ে আপডেট করেও নিয়েছেন। এখন আর এটি আপডেট সম্ভব হচ্ছে না তাই নতুন কম্পিউটার পিসি কিনতে হয়েছে আপনার। তো, পুরাতন পিসিটি দিয়ে আপনি কি করবেন? এটি বিক্রি করে দিবেন না এটিকে ফেলে রাখবেন? পাঠকদের সুবিধার্থে পুরাতন পিসির কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার নিয়ে সাজানো হয়েছে এ লেখাটি—

 

এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক তৈরি

পুরাতন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার অংশকে আপনি খুলে নিয়ে আলাদাভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন : আপনার পুরাতন কম্পিউটারের সবকিছুই নষ্ট হয়ে গেছে হার্ডডিস্ক অনেক সময় ভালো থাকে (পুরাতন হার্ডডিস্ক সহজে নষ্ট হয় না)। এই ওয়ার্কিং হার্ডডিস্ককে পুরাতন সিপিইউ বক্স থেকে খুলে নিয়ে এটাকে আলাদাভাবে এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য আপনাকে সঠিক ফরম্যাটের ইউএসবি কানেক্টর ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত ল্যাপটপের হার্ডডিস্কের জন্য ২.৫ আইডিই অথবা সাটা ইউএসবি কানেক্টরে দরকার হবে এবং নরমাল হাডডিস্কের জন্য সাধারণত ৩.৫ আইডিই অথবা সাটা ইউএসবি কানেক্টরে দরকার হবে। এই কানেক্টরগুলো আপনি স্থানীয় কম্পিউটার হার্ডওয়্যার দোকানগুলোতে পাবেন।

 

লিনাক্স নিয়ে গবেষণা

আপনি যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারকারী হন তাহলে আপনার পুরনো পিসিতে লিনাক্স ওএস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা হলে জাস্ট বুট সেক্টর ধরে পুরনো পিসি রিসেট মেরে দিবেন। পুরনো পিসিতে লিনাক্স ইন্সটল করে আপনি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমকে ট্রাই করে দেখতে পারেন। এভাবে পুরনো পিসির সত্ ব্যবহার আপনি করে ফেলতে পারেন। পুরনো পিসিতে লিনাক্স বেশ ভালোভাবেই পারফরমেন্স দিবে। কারণ লিনাক্স তুলনামূলক বেশ কম পাওয়ার ব্যবহার করে তাই পুরান কনফিগারেশনেও এটাকে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

ফাইল/প্রিন্ট সার্ভার হিসেবে ব্যবহার

আপনি চাইলে সহজেই আপনার পুরনো পিসিকে দরকারি সার্ভার পিসি হিসেবে রূপান্তর করে ফেলতে পারেন। পুরনো পিসিকে শুধুমাত্র দরকারি সফটওয়্যার দিয়ে নির্দিষ্ট কাজের জন্য একটি অফিসে বা ক্যাফেতে সেট করে রাখতে পারেন। যেমন : পিসিতে শুধুমাত্র উইন্ডোজ ফাইল অ্যান্ড প্রিন্টার শেয়ারিং সফটওয়্যারটি সেটআপ করে নিয়ে অফিসের সকল এক্সটাল ডিভাইসকে পুরনো পিসির সঙ্গে সংযোগ করে ফেলে একটি অসাধারণ ফাইল অথবা প্রিন্ট সার্ভার বানিয়ে ফেলতে পারেন।

 

এক্সটারনাল ফায়ারওয়াল

কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে হয়তো ৩০/৪০ টা কম্পিউটার রয়েছে। সেখানে ইন্টারনেট সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতিটি পিসিতে ফায়ারওয়াল চালু করা রয়েছে। এখন সে পিসিগুলো থেকে ফায়ারওয়াল সার্ভিসটি উঠিয়ে দিয়ে আপনি পুরনো পিসিকে এক্সটারনাল ফায়ারওয়াল হিসেবে একটি ডেডিকেটেড সিস্টেম বানিয়ে ফেলতে পারেন। এই পুরনো পিসি অফিসের সকল কম্পিউটারের জন্য একটি স্ট্যান্ডঅ্যালন এক্সটারনাল ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করবে। এভাবে আলাদা ফায়ারওয়াল পিসিতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বেশ কাজের হয়ে থাকে।

 

মিডিয়া স্টেশন

পুরনো পিসিকে আপনি আপনার ব্যক্তিগত মিডিয়া স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আপনার পছন্দের যত অডিও, ভিডিও ফাইল রয়েছে সেগুলো এই পিসিতে স্টোর করে রেখে একে জাস্ট মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও পুরনো পিসির মনিটরকে আলাদা টিভি কার্ডের সাহায্যে আপনি টিভি বানিয়ে ফেলতে পারেন। একটা টিভি কার্ডের দাম বেশি নয়, ২ হাজারের মধ্যেই একটি মোটামুটি মানের টিভি কার্ড পুরনো পিসির মনিটরের সঙ্গে কানেক্ট করে পিসিকে টেলিভিশন হিসেবে সেট করে ফেলতে পারেন।

 

সিসি ক্যামেরা স্টেশন

অফিসে কিংবা ব্যবসায় ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য আমরা বর্তমানে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করি। সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করার জন্যেও কিন্তু একটি মনিটরের প্রয়োজন হয়। পুরনো পিসিকে সিসি ক্যামেরা স্টেশন হিসেবে ডেডিকেট করে নিতে পারেন আপনি। ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারেন।

 

ডেডিকেটেড ব্যাকআপ

এটা শুধুমাত্র ল্যাপটপের ক্ষেত্রে বলা যায়। ধরুন আপনার কাছে বেশ পুরাতন একটি ল্যাপটপ রয়েছে। যেখানে ৮০ গিগাবাইটের হার্ডডিক্স ছাড়া বলার মতো তেমন কিছুই নেই। ইন্টেল এটম প্রসেসর আর ১ গিগাবাইট র?্যামে উইন্ডোজ ৭ দিতেই আপনি সেখানে ভয় পান! এক্ষেত্রে একটি কাজ করতে পারেন। ল্যাপটপটিতে উইন্ডোজ এক্সপি দিয়ে রেখে বা যদি পারেন তাহলে লিনাক্স সেটআপ করে নিয়ে সেই ৮০ গিগাবাইটের হার্ডডিক্সকে সম্পূর্ণ রূপে আপনার ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ ডাটার ব্যাকআপ হিসেবে ডেডিকেট করে দিতে পারেন। অফিসের সকল ডাটা, ব্যক্তিগত ডাটা, ছবি, অডিও, ভিডিও, ইবুক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সফটওয়্যার ইত্যাদি সব কিছুই পুরনো ল্যাপটপে ব্যাকআপ করে রাখতে পারেন। তারপর ল্যাপটপকে কোথাও ফেলে রাখলেন এবং কাজের সময় চট করে খুলে ব্যাকআপকে ব্যবহার করতে পারেন।

 

ভিডিও গেম সার্ভার

আপনি যদি অনলাইনে মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেম খেলে থাকেন তাহলে গেম সার্ভার টার্ম সম্পর্কে জেনে থাকবেন। একটি অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেমটি একটি সার্ভার পিসিতে ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে সবসময় কানেক্টেড থাকে। আপনি চাইলে আপনার পুরনো পিসিকে অনলাইন ভিডিও গেম সার্ভার হিসেবে রূপান্তর করে ফেলতে পারেন এবং বন্ধুর গ্রুপ মিলে এটাকে উপভোগ করতে পারেন। সার্ভার পিসিতে ভিডিও গেমস চালানোর প্রয়োজন হয় না তাই গ্রাফিক্স কার্ড বা হাই ফাই র?্যামের চিন্তা এখানে আপনাকে করতে হবে না। তবে এটা সব ধরনের অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

 

অপারেটিং সিস্টেম প্লেস্টেশন

নতুন নতুন ভিন্ন ভিন্ন  অপারেটিং সিস্টেম টেস্ট করতে যদি আপনি আগ্রহী হন তাহলে আপনার পুরনো পিসিকে এই কাজে ডেডিকেটেড করে ফেলতে পারেন। আর নিজেই নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম প্লেস্টেশন বানিয়ে ফেলতে পারেন। ৪০ গিগাবাইট হার্ডডিক্স, ২ গিগাবাইট র্যাম এবং ডুয়াল কোর (দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের হলেই হবে) প্রসেসর থাকলেই এ যাবত্কালের সকল অপারেটিং সিস্টেমকে আপনি পুরনো পিসিতে ইন্সটল করে টেস্টিং করতে পারেন।