শ্রীবরদী পৌর বাজারের অলি-গলি বেহাল

জনদুর্ভোগ চরমে

শ্রীবরদী (শেরপুর) সংবাদদাতা

জনদুর্ভোগের আরেক নাম শ্রীবরদী পৌর বাজারের অলিগলি ও রাস্তা। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা, পথচারী ও শিক্ষার্থীসহ চলাচলকারীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা হতে উত্তর বাজার, অগ্রণী ব্যাংক থেকে কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, মাংস বাজার, শুঁটকি বাজার, কাঁচাবাজারের বিভিন্ন আড়ত, পান-সুপারির বাজার, কামিল মাদ্রাসা এবং হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার রাস্তা কাঁদা ও আবর্জনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ হয় লোকজনের চলাচল। এতে করে চরম বিপাকে পড়েন বিদ্যালয়গামী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পথচারী ও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা। আর চৌরাস্তা হতে উত্তর বাজার, কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংস বাজারের অবস্থা আরো নাজুক। ওই তিন বাজারের ড্রেন ভরে গেছে ময়লা আবর্জনায়। এসব ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। এ ছাড়াও কাঁচাবাজার হতে সাব রেজিস্ট্রি অফিস, চাল হাটি ও সোনালী ব্যাংকে যাতায়াতের সড়কটি জলাবদ্ধতার কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এখন পথচারীসহ যানবাহানও চলাচল করতে পারে না।

বাজার করতে আসা খন্দকার সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন যাবত্ সড়কটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় চলাচল করতে পারি না। ফলে কাঁচা বাজার করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছাদেক আলী, আবুল হোসেন, জামাল মিয়া, মাছ ব্যবসায়ী হামিদুর, সাইদুর, আলাল মুন্সী ও মাংস বিক্রেতা আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে জানান, ময়লা আবর্জনা ও জলাবদ্ধতার কারণে এই বাজার দিন দিন ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এতে তাদের চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান।

শ্রীবরদী কাঁচাবাজার বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মিনাল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানকার কাঁচামালের আড়তে মালামাল আনা নেওয়া করে। কিন্তু জলাব্ধতার কারণে মালামাল আনা নেওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত্ সমস্যা হচ্ছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ওই সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, কাঁচাবাজারের জলাবদ্ধতা, ময়লা আবর্জনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়টি বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ দিকে, ড্রেনের পানি ও ময়লা আবর্জনা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই স্বীকার করে পৌরসভার মেয়র আবু সাঈদ বলেন, কাঁচাবাজারের অভ্যন্তরের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে কোনো বরাদ্দ নেই। মাছ বাজারে পুরনো যে ড্রেন ছিল তার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ড্রেনগুলো আর পরিষ্কার করা হয় না। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী থেকে ড্রেন নির্মাণের বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।