‘শহরের ২১ শতাংশ মানুষ খাওয়ার পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সংসদকে জানিয়েছেন, শহর অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারের ২১ শতাংশ মানুষ খাবার পানি নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে। এ দুর্ভোগ কমাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গতকাল সোমবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এলজিআরডি মন্ত্রী জানান, সুপেয় পানির জন্য দেশের সব পৌরসভায় পয়েন্ট সোর্সের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু আছে। অধিকাংশ পৌরসভায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব পৌরসভায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫৯টি পৌরসভায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু আছে। আরো ৯৬টি পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। দেশের পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্য ১২ প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহের মাধ্যমে ৬৮৮টি উৎপাদক নলকূপ, ৫ হাজার ৪৭১ কিলোমিটার পাইপলাইন, ৮৭টি পানি শোধনাগার, ৬৬টি উচ্চ জলাধার, ১২ হাজার ৫৮৯টি গৃহ সংযোগ এবং ১৫ হাজার ৩৩২টি নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরো জানান, আগামী কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ১৮টি জেলা শহরে ‘ভূপৃষ্ঠস্থ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি ভূপৃষ্ঠস্থ পানি  শোধনাগার, ৩৬টি উচ্চ জলাধার, ১ হাজার ৫৩৪ কিলোমিটার পাইপ লাইন এবং ১ লাখ ৪৪ হাজারটি গৃহ সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, সারা দেশের ৩১টি পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের অধীনে ৯৭টি উৎপাদক নলকূপ, ১০টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট,  ৯৩১ কিলোমিটার পাইপ লাইন, ১ লাখ ২ হাজার ৬১টি গৃহ সংযোগ, ৩১১টি পাবলিক টয়লেট, ৭৬৩টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন, ৩১টি পৌরসভায় কম্পোজিট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ৪০৩ কিলোমিটার ড্রেন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।