এ বাজেট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সস্পৃক্ত করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এ বাজেট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর খাতের বাজেটের মাত্র ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। যা মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট-২০১৯-২০: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউকেএইড যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে ডিসিএফ, ডব্লিউডিডিএফ, এনজিডিও, এনসিডিডব্লিউ, এসডিএসএল, ডিডব্লিউএস, ভিপস ও টার্নি পয়েন্ট। 

জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০ এর উপর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা। তিনি বলেছেন, এবারের বাজেটিতে ভাতার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মোট বরাদ্দের ৮৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভাতার উপর অধিক নির্ভরতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উত্পাদনমুখি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।

আলবার্ট মোল্লা আরো বলেন, দেশে ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হলেও এবছর মাত্র ১০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যা প্রতি ইউনিয়নে মাত্র ২ জন এই উপবৃত্তির আওতায় আসতে পারবে। এ বরাদ্দ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না। বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবসা ও উত্পাদনমূলক কাজে লাগাবার লক্ষ্যে পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দের কথা বলা হলেও তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ অথচ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ধারণায় মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ সনদ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর মত শক্তিশালী আইনী কাঠামো আমাদের সামনে রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যথাযথ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক সংখ্যা নিরূপন, শতভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা, সর্বক্ষেত্রে অবকাঠামোগত ও তথ্যগত প্রবেশগম্যতার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।