চট্টগ্রামে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে চার শতাধিক ইটভাটা

আইনি শর্ত মেনে ইটভাটা নির্মিত না হওয়ায় গত প্রায় দুই বছর যাবত্ লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু শর্ত পূরণ না করে চট্টগ্রাম জেলায় কয়েক শত ইটভাটা বছরের পর বছর চালু রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আইন অমান্য করে যত্রতত্রভাবে নির্মিত এসব ইটভাটায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। কৃষিজমিতে ও আবাসিক স্থাপনার  অতি কাছে  অধিকাংশ ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে।

ইটভাটা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন মানা হচ্ছে না। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। আদালত শর্তপূরণ না করে নির্মিত ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আদেশের বিরুদ্ধে ইটভাটার মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত আবেদন খারিজ করে দেন। পরবর্তী সময়ে তারা আবার আপিল করেছেন। আপিলের এখনো শুনানি হয়নি। ইটভাটা নির্মাণের জন্য লাইসেন্স প্রদান করেন জেলা প্রশাসন। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে থাকেন। চট্টগ্রামে প্রায় ৪ শতাধিক ইটভাটা চালু রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে এ ধরনের ইটভাটা খুবই কম। আবার জেলা প্রশাসনও শর্ত পূরণ না হওয়ায় চালু থাকা ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করছে না। ফলে গত প্রায় দুই বছর যাবত্ ইটভাটার অনুমোদন নিয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শর্ত শিতিল করে চালু থাকা লাইসেন্স নবায়নের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে ছিলেন ইটভাটা মালিক সমিতি।

আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। ইটভাটাগুলো পরিবেশ দূষণ করে লাইসেন্স নবায়ন না করে ব্যবস্থা পরিচালনা করে চলেছে। নেই প্রশাসনের কোনো অভিযান। ধ্বংস হচ্ছে কৃষিজমি ও আশপাশের পরিবেশ। ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। দেখা গেছে, অধিকাংশ ইটভাটা ১২০ ফুট উচ্চতায় চিমনি স্থাপন করেছে। কিন্তু জিগজ্যাগ প্রযুক্তি স্থাপন করেনি।

লোহাগাড়া উপজেলার ইটভাটা মালিক সরোয়ার কোম্পানি বলেন, শর্ত শিতিল করে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আমরা জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছি না। ইটভাটার শর্তগুলো পুরোপরি পূরণ করে ইটভাটা চালানো সম্ভব নয়।’ রাঙ্গুনিয়ার ইটভাটা মালিক ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। এখনো আপিল শুনানি হয়নি। ইটভাটা মালিকরা বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অল্প সময়ে গুড়িয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’

ইটভাটার মালিক শাহেদ উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইটভাটা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নিতে হয়। আইনগত জটিলতার কারণে এখন ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ আইনের শিতিল করে লাইসেন্স প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। আবার কয়লার দাম বৃদ্ধিতে আমরা নতুন করে সংকটে পড়েছি। গুটিকয়েক আমদানিকারক সিন্ডিকেট করে কয়লার দাম বৃদ্ধি করেছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে ইটভাটার সংখ্যা খুবই কম। লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসন। আমরা ছাড়পত্র দিই। অভিযান পরিচালনা করতে কয়েক সংস্থার সমন্বয়ে করতে হয়। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’