গফরগাঁওয়ে দুই শ্যালককে গাছে বেঁধে নির্যাতন করলো ভগ্নিপতি

গফরগাঁওয়ে দুই শ্যালককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে তাদের ভগ্নিপতি। নির্যাতিত দুই যুবক ইলিয়াস (২০) ও ইকরাস (২৫) উপজেলার চরমছলন্দ কান্দাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল খালেকের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে তাদের ভগ্নিপতি আবু সাঈদকে (৩৭) আটক করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় গতকাল সোমবার থানায় মামলা করতে গেলে নির্যাতিত ইলিয়াসকেও থানায় আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৫ বছর আগে চরমছলন্দ কান্দা গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে শিউলির সঙ্গে চরমছলন্দ কাচারীপাড়া গ্রামের আছর আলীর ছেলে আবু সাঈদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা কারণে নির্যাতনের শিকার হতেন শিউলি। অত্যাচার সইতে না পেরে ৬ মাস আগে শিউলি তিন সন্তানসহ স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

গত রবিবার সকালে ইলিয়াস ও ইকরাস অটোরিকশা যোগে ভগ্নিপতি সাঈদের বাড়ির সামনে দিয়ে গফরগাঁও বাজারে যাওয়ার সময় সাঈদ ও তার আত্মীয় ইলিয়াস (৩০), রহিম (৪২), হাবিবুর (৩৫), জসিম (৪০), হাফিজ উদ্দিন (৩৬) তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে একটি গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। তাদের সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় সাঈদ ও তার আত্মীয়রা। ইলিয়াস ও ইকরাসের বাবা আব্দুল খালেক খবর পেয়ে সেখানে গেলে তাকেও গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এলাকাবাসীর চাপে একপর্যায়ে আব্দুল খালেককে ছেড়ে দেয় তারা। আব্দুল খালেকের পরিবারের লোকজন গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ ইলিয়াস ও ইকরাসকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, ছয় মাস আগের একটি ঘটনায় আবু সাঈদ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আবার ইলিয়াসেরও অভিযোগ আছে আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। দুই পক্ষের পালটাপালটি অভিযোগ থাকায় তাদের আটক রাখা হয়েছিল।