টিকে রইল সেমির স্বপ্ন

সর্বশেষ ৯ সাক্ষাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ বার হারিয়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজেই তিন বার এই দলটাকে হারিয়েছেন মাশরাফিরা। তার পরও বিশ্বকাপের ম্যাচ বলে কথা। সেই বিশ্বকাপের উত্তেজনাকেও আপন করে নিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় গতকাল হারিয়ে দিল তারা ৭ উইকেটের ব্যবধানে। এই জয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে রইল। পাঁচ খেলা শেষে পাঁচ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ এখন পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে। সামনে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড।

আগে ব্যাট করে টনটনের ছোট মাঠকে কাজে লাগিয়ে ৮ উইকেটে ৩২১ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে বাংলাদেশ ৪১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এটা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে পাওয়া জয়।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশকে ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন তামিম ও সৌম্য। সৌম্য ২৩ বলে ২৯ রান করে ফিরে আসেন। তামিম ৫৩ বলে ৪৮ রান করে আউট হন। তামিম আউট হওয়ার পর দ্রুত ফিরে আসেন মুশফিকুর রহিম; তিনি করেন ১ রান। আর এখান থেকেই মহাকাব্যিক এক পালটা আক্রমণ শুরু করেন সাকিব ও লিটন দাস। দুজনে ১৮৯ রানের অপরাজিত জুটি করেন। শেষ পর্যন্ত লিটন ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন। আর সাকিব আল হাসান চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে, ৯৯ বলে ১২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাকিব ১৬টি চার মেরেছেন। লিটন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন।

এই ইনিংস খেলার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করলেন সাকিব আল হাসান। এর আগে তামিম ইকবাল পার করেছেন এই মাইলফলক।

এর আগে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সবচেয়ে ভয়ানক হয়ে উঠতে পারতেন ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেল। মজার ব্যাপার হলো, এই দুই জনই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তারপরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে বিশাল স্কোর করলো, সে কৃতিত্ব সেই হোপ, এভিন লুইস ও সিমরন হেটমেয়ারের।

দলীয় স্কোর বোর্ডে ৬ রান উঠতেই প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ। ১৩ বলে শূন্য রান করে সাইফউদ্দিনের প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন গেইল। এরপর ১১৬ রানের জুটি করেন লুইস ও হোপ। হোপ বাংলাদেশের বিপক্ষে তার রানের স্রোত অব্যহত রাখেন। অন্য প্রান্তে লুইস ৬৭ বলে ৭০ রান করে সাকিবের শিকার হয়ে ফেরেন। নিকোলাস পুরানও ২৫ রান করে সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় রানের দিকে নিয়ে যান হেটমেয়ার ও হোপ। হেটমেয়ার মাত্র ২৬ বলে ৫০ রান করে মুস্তাফিজের প্রথম শিকার হন। পরপর মুস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন কোনো রান না করা রাসেলকে।

এখানে এসে জেসন হোল্ডার ১৫ বলে করেন ৩৩ রান। এই সময় পর্যন্ত চলেছে হোপের ব্যাট। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের বলে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে আউট হয়ে ফেরেন হোপ।

স্কোরকার্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজ       রান    বল ৬  ৪

গেইল ক মুশফিক ব সাইফউদ্দিন  ০  ১৩ ০   ০

লুইস ক অতিঃ (সাব্বির) ব সাকিব ৭০ ৬৭ ৬   ২

হোপ ক লিটন ব মুস্তাফিজ   ৯৬ ১২১   ৪   ১

পুরান ক সৌম্য ব সাকিব    ২৫ ৩০ ২  ১

হেটমায়ার ক তামিম ব মুস্তাফিজ  ৫০ ২৬ ৪   ৩

রাসেল ক মুশফিক ব মুস্তাফিজ   ০  ২  ০   ০

হোল্ডার ক রিয়াদ ব সাইফউদ্দিন  ৩৩ ১৫ ৪   ২

ব্রাভো ব সাইফউদ্দিন      ১৯ ১৫ ০  ২

থমাস অপরাজিত        ৬  ১১ ০  ০

অতিরিক্ত (লেবা ৬, ও ১৬)   ২২

মোট (৫০ ওভারে ৮ উইকেটে)  ৩২১

উইকেট পতন: ১/৬ (গেইল, ৩.২), ২/১২২ (লুইস, ২৪.৩), ৩/১৫৯ (পুরান, ৩২.২), ৪/২৪২ (হেটমায়ার, ৩৯.৩), ৫/২৪৩ (রাসেল, ৩৯.৬), ৬/২৮২ (হোল্ডার, ৪৩.৪), ৭/২৯৭ (হোপ, ৪৬.৬), ৮/৩২১ (ব্রাভো, ৪৯.৬)।

বোলিং: মাশরাফি ৮-১-৩৭-০, সাইফুদ্দিন ১০-১-৭২-৩, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৯-৩, মিরাজ ৯-০-৫৭-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০, সাকিব ৮-০-৫৪-২।

বাংলাদেশ         রান    বল ৬  ৪

তামিম রান আউট       ৪৮ ৫৩ ৬  ০

সৌম্য ক গেইল ব রাসেল   ২৯ ২৩ ২  ২

সাকিব অপরাজিত       ১২৪   ৯৯ ১৬  ০

মুশফিক ক হোপ ব থমাস   ১  ৫  ০  ০

লিটন দাস অপরাজিত     ৯৪ ৬৯ ৮  ৪

অতিরিক্ত (বা ১, ও ২৫) ২৬

মোট (৪১.৩ ওভারে ৩ উইকেটে)   ৩২২

উইকেট পতন: ১/৫২  (সৌম্য, ৮.২), ২/১২১ (তামিম, ১৭.৩), ৩/১৩৩ (মুশফিক, ১৮.৬)।

ব্যাট করেননি: মাহমুদুল্লা, মোসাদ্দেক, সাইফুদ্দিন, মিরাজ, মাশরাফি, মুস্তাফিজ।

বোলিং: কটরেল ১০-০-৬৫-০, হোল্ডার ৯-০-৬২-০, রাসেল ৬-০-৪২-১, গ্যাব্রিয়েল ৮.৩-০-৭৮-০, থমাস ৬-০-৫২-১, গেইল ২-০-২২-০।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান।