শেষ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলের সংসদ সদস্যরাই আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছেন! এমন অভিযোগ করেছে খোদ দলেরই একটি অংশ। কেন্দ্রের বারবার হুঁশিয়ারিতেও কোনো কাজ হয়নি। বিগত চার ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারী ৫৫ মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবারও অনেকটা প্রকাশ্যে এমপিরা নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিতে পিছপা হননি বলে দলের ওই অংশটির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতেই আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, অনেক উপজেলায় মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ‘এমপি লীগ’ বনাম ‘আওয়ামী লীগ’-এর মধ্যে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। এই বোর্ডের প্রধান হলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোথাও কোথাও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পছন্দের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলটির স্থানীয় এমপি ও তাদের সমর্থকদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে নৌকা। মাদারীপুর সদরে উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান খান। নৌকার মনোনীত প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান খান সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের ছোট ভাই। দুইপক্ষই নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া। একই অবস্থা বরগুনার তালতলী উপজেলায়। সেখানে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করছেন স্থানীয় এমপি। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টুকে সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুর সদর উপজেলায় নৌকার প্রার্থী সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রীনা পারভীন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান হাবিব ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আতিকুজ্জামান মোহাম্মদ তৈয়ব আলী। গাজীপুর-২ এবং গাজীপুর-৩ আসন সদর উপজেলার আওতাধীন। এই দুই আসনের এমপি দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেননি বলেও মনোনয়ন পাওয়া পক্ষের অভিযোগ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আশরাফুল আলম সরকার লেবু। তবে বেশিরভাগ স্থানীয় নেতাকর্মী দলের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নাটোরের নলডাঙ্গায় আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আহমদ আলী শাহ। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও অনেক নেতাকর্মীর সমর্থন পাচ্ছেন স্থানীয় এমপির কারণে। শেরপুরের নকলায় দলীয় প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন।
ইত্তেফাকের কামারখন্দ সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মতিন চৌধুরীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন; কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শেখ সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা আমার পক্ষে কাজ না করে নৌকার বিরোধিতা করছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন শেখ বলেন, আমি নৌকার পক্ষে কাজ করছি। অন্যদিকে, সেলিম রেজা বলেন, আমি দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছি।