নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানা পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি রাতে উপজেলার রূপগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ এবং কাউকে না কাউকে আটক করছে। আবার টাকার বিনিময়ে আটককৃতদের ছেড়েও দিচ্ছে। পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই রাতে বাড়িতে থাকছেন না। রূপগঞ্জ থানা ভবন থেকে ৫শ গজ দূরবর্তী এ এলাকার অনেকেই বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা রয়েছে চরম আতঙ্কে।
গত ১৬ জুন গভীর রাতে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রূপগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মো. মশিউর রহমান তারেকের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ তার বসতঘরের দরজায় লাথি মারে। মশিউর রহমান তারেকের নাম ধরে গালিগালাজ ও তাকে খোঁজাখুঁজি করে। সেদিন রাতে তিনি গাজীপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত ১৫ জুন রাতে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও একই এলাকার বাসিন্দা জিলানী ভাণ্ডারির বাড়িসহ আরো অনেকের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়।
পুলিশের এসআই ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঞ্জুর রহমানের নেতৃত্বে এ সকল ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। অনেক বহিরাগতও মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পুলিশ গত কয়েকদিনে রূপগঞ্জ গ্রামের মুমিন উদ্দিনের ছেলে সেলিম, আবু সাইদের ছেলে খাইরুলসহ সাত/আটজনকে আটক করে। পরে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবারো গ্রেফতার হতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী শারমিন আক্তার বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার না করে অর্থশালী ও নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেফতারে তত্পর রয়েছে। প্রকৃত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।
এস আই মঞ্জুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তত্পর রয়েছে। ভুলবশত রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মশিউর রহমান তারেকের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খান বলেন, রূপগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার বাণিজ্যের খবর তার জানা নেই। তবে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন বিকেলে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় আহত রূপগঞ্জ গ্রামের জুয়েলের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।