‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সব অনুষ্ঠানে ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ থাকবে’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেক অনুষ্ঠানে ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ থাকবে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে রিইনকার্নেট-৩ আঞ্চলিক আর্ট ও চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।

বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি (বন্ধু) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চীপ অব মিশন হেলেন লাফেব এবং ইউএনএইডস বাংলাদেশের পরিচালক ডা. সায়মা খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম খালিদ বলেন, সৃষ্টির অপার সৌন্দর্যের মাঝে এক বেদনা ঝরা জীবন হিজড়া জনগোষ্ঠীদের। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। পেশা হিসেবে বাজারে, বাসে, রাস্তায়, দোকানে টাকা তুলে জীবন নির্বাহ করছেন। রাস্তাঘাটে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছেন। অথচ এরা আমাদেরই ভাই-বোন। আমাদের উচিত সমাজে এদের জায়গা করে দেওয়া। পরিবার যখন অবজ্ঞা-অস্বীকার করে তাদের তাড়িয়ে দেয়, তখন আমাদেরই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। এখন সময় এসেছে তাদের সবকিছুতে অধিকার দেওয়ার।

ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ আলোচনা অনুষ্ঠানে আমি এদের জন্য একটি চেয়ার রাখার ব্যবস্থা করব, যেন তারা সে সব আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া আমাদের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে ৫ থেকে ১০ মিনিট এই হিজড়াদের পারফরমেন্সের জন্য বরাদ্দ রাখারও চেষ্টা করবো। যেন তারা মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে। আর তাদের নিয়ে এমন আর্ট ও চলচ্চিত্র উৎসব সত্যিই প্রশংসা যোগ্য।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের যেসব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি আছে, তাদের কিন্তু তাদের মা-বাবা-পরিবার বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। সমাজসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা সহযোগিতা পায়। অথচ আমাদের হিজড়া জনগোষ্ঠীর যারা আছেন, তারা সকল জায়গা থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে পায় ঘৃণা। সেটি শুধু সমাজ বা পরিবার থেকে নয়, তাদের আপন জন্মদাতা বাবা-মার কাছ থেকেও। এটি শুধু আমাদের সমাজ বা দেশের জন্য নয়, এটি গোটা মানবজাতির জন্য দুঃসংবাদ। তাই এই জায়গাটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই আন্দোলনটা চালিয়ে নিতে হবে এবং আমি আশা করি এদেশের তরুণ শিক্ষিত ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবে।

ছবি: সংগৃহীত

আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বন্ধু'র চেয়ারপারসন আনিসুল ইসলাম হিরু। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ। এসময় সকলেই হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলেন।