মোবাইল ফোনে টকটাইমের ওপর ৫ শতাংশ অতিরিক্ত করারোপে উদ্বিগ্ন মোবাইল ফোনের গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা জানান অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক, কার্যকরী সদস্য সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া উপগ্রহ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগের যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকেই এই সেবা ছিল উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের যোগাযোগের বিলাসিতার মাধ্যম। এরপর নব্বইয়ে দশকে ১-জি ও ২-জি সেবার মাধ্যমে তারবিহীন মোবাইলফোন সেবা চালু হলেও এ ব্যবসাকে মনোপলি ও লুটপাটের উল্লেখযোগ্য মাধ্যমে হিসেবে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সাল থেকে এ খাতে মনোপলি ভাঙলে অতি সাধারণ ব্যক্তি ও পরিবারের সামর্থ্যের নাগালে চলে আসে এ সেবা। বর্তমানে দেশে ৫-জি চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একদিকে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ব্যয়ও বৃদ্ধি করতে চায়। এ ধরনের দ্বিমুখী নীতির কারণ কী, আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই? গত পাঁচ বছরে প্রতি বাজেটেই টেলিযোগাযোগ সেবার ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। হয় সেটা কথা বলায় বা ইন্টারনেট ব্যবহারে কিংবা ডিভাইস ক্রয়ে কেনার ক্ষেত্রেই হোক।
বর্তমানে দেশের সকল সেবা সংস্থার মধ্যে রাজস্ব আদায়ে টেলিযোগাযোগ খাত অগ্রগামী। জিডিপির প্রায় ৬.৫ শতাংশ টেলিকম খাত থেকে আসে। বিটিআরসি শুধু রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করে থাকে। তা ছাড়া লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও তরঙ্গ বিক্রি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। বর্তমানে এই খাতে গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ। এই খাত থেকে অদৃশ্য অর্থ আদায় করা যায় বলেই এ খাতে সবচাইতে বেশি চাপ প্রয়োগ করে রাজস্ব আদায় করা হয় বলে আমরা মনে করি।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আদায় হবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জুন ২০১৫ পর্যন্তও মোবাইল ফোন ব্যবহারে শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাটই দিত গ্রাহক। এরপর সম্পূরক শুল্ক নিয়ে আসা হয়। প্রথমে ৫ শতাংশ, পরে তা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু দুই বছর বাদেই কিন্তু আবার এই শুল্ক ৫ শতাংশ করে দেওয়া হয়, যেটি এবার ১০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হলো। মাঝে যোগ করা হয়েছে ১ শতাংশ সারচার্জ। নতুন সম্পূরক শুল্ক আসার কারণে এখন মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর মোট ট্যাক্স গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে।