হয়রানির প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে ভারতে ডাকা চিকিত্সক হরতালে বেহাল পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আশ্বাস এবং তার সঙ্গে আলোচনার পর রাজ্যটিতে কর্মবিরতি তুলে নিয়েছেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা।
গত ১০ জুন রাতে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের নিগ্রহ, মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই তারা আন্দোলনে নামেন। শুরু করেন কর্মবিরতি। ক্রমে তা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার দাবিতে ভারত জুড়ে হরতালের ডাক দেয় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। গতকালও সেই হরতাল পালিত হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবা একপ্রকার ভেঙে পড়ে। গতকাল আউটডোর এবং অন্যান্য সেবাও ছিল বন্ধ। জরুরি ও রুটিন পরিষেবা চালু ছিল কেবল। ভোপাল, লখনৌ, মুম্বাই, ভুবনেশ্বরে প্রতিবাদে সামিল হন চিকিত্সকরা। উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডেও হরতাল পালিত হয়। লন্ডনের বাঙালি ডাক্তারদের অ্যাসোসিয়েশনও প্রতিবাদে সমর্থন জানান হয়।
কলকাতায় চিকিত্সক নিগ্রহের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে মমতা ব্যানার্জির আশ্বাস চেয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। দাবি ছিল মিডিয়ার উপস্থিতিতে তারা মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সমস্যার কথা জানাবেন। তা না হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে চিকিত্সা ক্ষেত্রে অচলাবস্থা চলছিল। শেষ পর্যন্ত মমতা জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে নেওয়ায় গতকাল বিকালে বৈঠক হয়। দীর্ঘ আলোচনায় সন্তুষ্ট হয়ে কর্মবিরতি, হরতাল তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। মমতা বলেন, সরকারি হাসপাতালে হামলার ঘটনা যাতে না ঘটে এবং ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে ১২ দফা লিখিত দাবি পেশ করেন জুনিয়র ডাক্তাররা।