চিতলমারীতে অপহরণের পর শিশুকে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে অপহরণের দুই দিন পর মাছের ঘের থেকে খালিদ শিকদার নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে চিতলমারী উপজেলার চৌদ্দহাজারী গ্রামের জনৈক সবুর তালুকদারের মাছের ঘের থেকে ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশু খালিদকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত খালিদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৫ জুন বিকেলে বাড়ির পাশে ঈদগাহ মাঠে খেলা করে ফেরার পথে শিশু খালিদ অপহৃত হয়। রাতে তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার আলী তালুকদার ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে চিতলমারী থানায় একটি মামলা করেন।

অপহরণের পর শিশু খালিদকে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার মরদেহ মাছের ঘেরে ফেলে দেয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। নিহত খালিদ শিকদার চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতলমারী সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের উপাধ্যক্ষ চৌদ্দহাজারী গ্রামের কাওসার আলী তালুকদারের ছেলে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলার পর পুলিশের একাধিক দল অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। স্থানীয় লোকজন সোমবার বিকেল চারটার দিকে মাছের ঘেরে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা খালিদ বলে শনাক্ত করেন। 

দুর্বৃত্তরা অপহরণের পরই শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে শিশু খালিদকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এজাহারনামীয় নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মির্জাপুরে ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই নিখোঁজ

তিনি আরও বলেন, ‘চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতলমারী সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের উপাধ্যক্ষ কাওসার আলী তালুকদারের সঙ্গে তার গ্রামের বেশকিছু মানুষের জমি ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

ইত্তেফাক/নূহু