প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

 

অপেক্ষা

সেলিনা হোসেন

 

প্রশ্ন-১। রুমার জন্মদিনের গল্পটি কী?

উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পে একজন শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই মেয়ে রুমা ও রুবার জন্মদিনের গল্প বর্ণিত হয়েছে।

রুমার জন্মদিনের গল্প: রুমা ও রুবা তাদের বাবা-মায়ের দুই আদরের মেয়ে। দুই মেয়ের জন্মদিন সম্পর্কে রাহেলা বানু ও জসীম মিয়া মজার গল্প বলেন। রুমার জন্মদিনের একটা গল্প আছে। শুনে রুমা বায়না ধরল গল্পটি শোনার জন্য। তখন রাহেলা বানু বললেন যেদিন রুমার জন্ম হলো, সে দিন বাড়ির উঠানের শিউলি গাছটায় অনেক শিউলি ফুল ফুটেছিল, এতো শিউলি ফুল আগে কখনো একসঙ্গে ফোটেনি। আর রাহেলা বানুও কখনো এত ফুল একসঙ্গে দেখেনি। সে ফুলের খুশবু চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাই রুমার জন্মদিনের গল্প।

মূলত, রুমার যে দিন জন্ম হয়েছিল, সেদিন তাদের উঠানের শিউলি গাছটায় অনেক ফুল ফুটেছিল।

প্রশ্ন-২। রুবার জন্মদিনের গল্পটি কী?

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অপেক্ষা’ গল্পে দুই বোন রুমা ও রুবার জন্মদিনের চমত্কার গল্প রয়েছে।

রুবার জন্মদিনের গল্প: যেদিন রুবার জন্ম হয়েছিল, সেদিন জসীম মিয়া বাড়ির বাইরের আম গাছটার নিচে বসেছিলেন। হঠাত্ তিনি মাথার উপরে তাকিয়ে দেখলেন যে, গাছটা আমের বোলে ভরে গেছে। এত বোল জসীম মিয়া আগে কখনো দেখেননি। আমের বোলের গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটাই রুবার জন্মদিনের গল্প।

মূলত, যেদিন রুবার জন্ম হয়েছিল, সেদিন তাদের বাড়ির বাইরের আম গাছটা আমের বোলে ভরে গিয়েছিল।

প্রশ্ন-৩। রাহেলা বানু দুমুঠো চাল কলসিতে জমিয়ে রাখে কেন?

উত্তর: রাহেলা বানু দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন।

যে কারণে জমিয়ে রাখতেন: রাহেলা বানুর স্বামী জসীম মিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর স্থানীয় সংগঠক। জীবিত থাকা অবস্থায় সহযোদ্ধাদের বলেছিলেন যে, যেকোনো বিপদে বা প্রয়োজনে তারা যেন জসীম মিয়ার বাড়িতে যায়। এ কথা জানত রাহেলা বানু। ফলে সব সময় তিনি কলসিতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন। রান্নার জন্য রুমা আর রুবা লাকড়ি জমিয়ে রাখত চুলার ধারে। রাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা এলে রাহেলা বানু জমানো চাল রান্না করে তাদের খাওয়ান।

রাহেলা বানু মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতে ভালোবাসতেন। এ কারণেই তিনি হাঁড়িতে দুমুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন।

প্রশ্ন-৪। লোকজন গোল হয়ে বসে কী করেছিল? তারা কী শুনতে পেল?

উত্তর: লোকজন গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছিল। তারা ঢাকা শহরের গণহত্যার কথা শুনতে পেল।

লোকজন গোল হয়ে বসে যা করছিল: রুমা ও রুবার বাবা জসীম মিয়া বাজার থেকে চাল কিনে এনে বাড়ির বারান্দায় ধপাস করে বসে পড়ে। স্ত্রীকে বলে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এ কথা শুনে রুমা ও রুবা ঘর থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে যায়। তারা দেখে যে, আম গাছের নিচে লোকজন গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছে। রেডিওতে তখন বিবিসির খবর চলছিল। লোকজন যা শুনতে পেল: লোকজন আম গাছের নিচে গোল হয়ে বসে রেডিও শুনছিল। বিবিসির সংবাদে তারা ঢাকার গণহত্যার কথা শুনতে পেল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে ঢাকা শহরে গণহত্যা শুরু করেছে। কিছুদিন আগে তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের স্বাধীনতার পূর্বাভাস শুনেছিল। আর আজ তার ফলস্বরূপ গণহত্যার খবর শুনতে পেল।