জার্মান সংসদে নাৎসি নির্যাতনের শিকার এলজিবিটিকিউদের স্মরণ

চলতি বছর জার্মানি বার্ষিক হলোকাস্ট স্মারক উৎসর্গ করেছে নাৎসিদের নির্যাতনের শিকার এলজিবিটিকিউদের উদ্দেশ্যে। জার্মান পার্লামেন্ট এই প্রথম এমন উদ্যোগ নিয়েছে। নাৎসি নির্যাতনের শিকার সমকামী, উভকামী ও ট্রান্সজেন্ডারদের স্মরণে এমন উদ্যোগ নিতে দেরি হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন জার্মান সংসদ বুন্ডেসটাগের প্রেসিডেন্ট ব্যার্বেল বাজ। তবে অন্যান্য জার্মান প্রতিষ্ঠান আগেই এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে আইন প্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বাজ বলেন, 'আমাদের যে স্মরণ করার সংস্কৃতি, তার জন্য নিপীড়নের শিকার সবার গল্প বলা জরুরি। আমরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অবিচার তুলে ধরি, তাদের কষ্টের কথা স্বীকার করি।' 

চলতি বছর জার্মানি বার্ষিক হলোকাস্ট স্মারক উৎসর্গ করেছে নাৎসিদের নির্যাতনের শিকার এলজিবিটিকিউদের উদ্দেশ্যে।

নাৎসিরা হলোকাস্টে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করে। এছাড়াও রোমা সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ এবং যৌন ও লিঙ্গ নির্ভর সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।

ইতিহাসবিদদের অনুমান, ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ সমকামী ও উভকামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাদের অনেককে বন্দি শিবিরে পাঠানো হয়েছিল। সমকামী পুরুষরা তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকলেও, লেসবিয়ান ও উভকামী নারীরা এবং ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরাও রেহাই পাননি।

নাৎসিরা হলোকাস্টে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করে।

বাজ বলেন, 'ভুক্তভোগীদের যারা জীবিত ছিলেন, তাদের সবাই ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তাদের গল্প আমাদের শোনা হয়নি। তাদের গল্প অন্যদের বলতে হবে।' শুধু নারীদের জন্য তৈরি নাৎসি বন্দি শিবিরে লেসবিয়ানদের জন্য গত বছর প্রথম স্মৃতি স্মারক উন্মোচন করা হয়। 

জার্মানির রাজধানী বার্লিন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে রাফেনসব্রুকে এই শিবিরটির অবস্থান। এছাড়া বার্লিন, কোলন ও ফ্রাঙ্কফুর্টে নাৎসিদের শিকার সমকামীদের জন্য কয়েকটি স্মারক উৎসর্গ করা হয়েছে। কিন্তু এলজিবিটিকিউ কর্মীরা বলছেন, হলোকাস্টের শিকার এলজিবিটিকিউদের নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া উচিত।