মো. আমিরুজ্জামান
জীবন সংগ্রামে জয়ী এক নারীর নাম মাহফুজা বেগম বেবী। নিজ বাসায় বসে পোশাক তৈরি করে হয়েছেন নির্ভর। হয়েছেন স্বাবলম্বী। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার মাহফুজা বেগম বেবী। স্বামী ইউনুস আলী একজন ঘড়ি ব্যবসায়ী। একটি মাত্র মেয়ে তার। মেয়েটি পড়াশুনা করে সৈয়দপুর আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তাদের পরিবার স্বচ্ছল।
তিনি চিন্তা করে আসছেন নিজ সংসারের পাশাপাশি কিভাবে শহর ও গ্রামের সহজ সরল অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা নির্যাতিত ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করা যায়। এরই অংশ হিসেবে তিনি বিগত ১০ বছর আগে কনসার্ন বাংলাদেশ (এনজিও) থেকে ক্রশ কাটায় প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ঐ প্রশিক্ষণের পাঁচ বছর পর শহর ও গ্রামের ২০ জন নারীকে নিয়ে নিজ ঘরেই আস্থা নাম দিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। এর পর শুরু করেন সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া। দিন দিন নারী উদ্যোক্তা মাহফুজা বেগম বেবীর এ কার্যক্রমে অনুপ্রেণিত হয়ে তার বাড়িতেই ৫০ জন নারী নিয়ে গঠিত হয় শক্তিশালী আস্থা সংগঠন। সংগঠনের এসব নারীদের হাতের তৈরি ক্রশ কাটার পোশাক ও বাজারজাত শুরু করেন তারা।
সৈয়দপুর উপজেলা গ্রাম ও শহরের একাধিক মহল্লায় গিয়ে দেখা যায় মাহফুজা বেগম বেবীর গঠিত সংগঠনের নারীরা নিজ ঘরে বসেই তৈরি করছেন শাড়িতে আকর্ষণীয় কাজ। এর সাথে ফতুয়া, টুপিস, থ্রিপিস, বেডসিট, ওড়না, সোফা কভার, সোফা ব্যাগ, কুশনকাভারসহ নকশীকাঁথা।
সংগঠনের দেওয়া ডিজাইন বা অর্ডার দেওয়া ডিজাইনে তৈরি করা হচ্ছে ঐসব মালামাল। বিভিন্ন ডিজাইনে তৈরি করা কাপড়গুলো নিজ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজলার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।
ক্রশ কাটার শিল্পীরা জানান, সংসারের কাজ করার পর হাতে অনেক সময় থাকে তাদের। মাহফুজা বেগম বেবীর কারণে সে সময়টুকু কাজে লাগিয়ে মাসে কমপক্ষে সাত/আট হাজার টাকা আয় করছেন তারা। আয়কৃত টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করাচ্ছেন। অনেকেই ভিটেমাটি কিনেছেন। কেউবা ঐ টাকা রেখেছেন ব্যাংকে।
তারা বলেন, আরো উন্নত প্রশিক্ষণ ও সংগঠন প্রধানের হাতে সরকারিভাবে এককালীন মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হলে ঘরে বসেই তারা অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। রংপুর থেকে আসা লাইলী ও নীলফামারী থেকে আসা মরিয়ম জানান, আস্থা নামের সংগঠনের পণ্যগুলো সবই আকর্ষণীয়। এছাড়া মূল্যও হাতেরনাগালে রয়েছে বলে পণ্যগুলো কিনতে এসেছেন তারা।
নারী উদ্যোক্তা মাহফুজা বেগম বেবী জানান, তার উদ্দেশ্য হলো শহর ও গ্রামের সহজ সরল অসহায় নির্যাতিত ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করা। সরকার যদি তার সংগঠনে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতেন এবং বিভিন্ন বাজারজাতকারী এগিয়ে আসতেন তাহলে তার এ ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারতেন।
সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরুন্নাহার নাহার শাহজাদী জানান, মাহফুজা বেগম বেবীর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর যেসব কাজ করছেন তা আকর্ষণীয়। এ নারীর প্রচেষ্টায় শহর ও গ্রামের নারীরা ক্রুশ কাটার কাজ করে নিজেরাই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আস্থা সংগঠনের প্রধান মাহফুজা বেগম বেবীর হাত আরো শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া। তাহলে সব নারীরই আয় বেড়ে যাবে।