খালে অবৈধ ড্রেজার বসিয়েছেন ইউপি সদস্য, সংঘর্ষের শঙ্কা গ্রামে

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অবৈধভাবে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। গোবিন্দপুর গ্রামবাসী ও বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

অবৈধভাবে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডেও গোবিন্দুপর গ্রামের পাশে একটি সরকারি খাল রয়েছে। এ খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য ৬ নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে তার শেখ ফরিদ, শাহীনসহ সহযোগিরা মিলে ড্রেজার বসায়। স্থানীয়রা বিষয়টি ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেনকে জানালে তিনি গ্রামকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় বালু উত্তোলন না করার জন্য বলেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তবুও 'বালুদস্যুরা' গ্রামবাসীদের বাধা উপেক্ষা করে খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসী ও বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বালু বন্ধে গ্রামবাসীরা রোববার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন জানান, সরকারি এই খালের যে অংশে ড্রেজার বসানো হয়েছে, সেখানে বালু উত্তোলন করলে গোবিন্দপুর গ্রামের খালের দুই পাশের কয়েকশ’ বাড়ি ভাঙনের কবলে পড়বে।

একই কথা জানান গোবিন্দপুর গ্রামের আমির আলী, ফজলুল হক, আব্দুল বাছেদ, শাহ আলমসহ অনেকে। তারা খাল থেকে ড্রেজার সরিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

বালু উত্তোলনের প্রস্তুতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মিয়া। তিনি জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে খালের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার জন্যে খনন করছেন। এতে গ্রামবাসীর ক্ষতির চেয়ে সুবিধাই বেশি হবে বলে মন্তব্য তার।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, স্থানীয়দের দেওয়া অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যদি কেউ সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।