>> মামুনুর রশিদ রাজিব
ফটোগ্রাফার বাবার ফটোগ্রাফি দেখে নেহাতই শখের বশে ২০০৯ সালে ফটোগ্রাফি শুরু করেন হাসিনুর রেজা চঞ্চল। কিন্তু শখের বশে ফটোগ্রাফি শুরু করলেও বর্তমানে মূল পেশার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি গ্রিসে আয়োজিত সিটিকোড ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল ফটো কন্টেস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতে নিয়েছেন অনেক পুরস্কার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেরা আলোকচিত্রী-২০১৮, স্বরলিপি ফাউন্ডেশন; গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড ফটো, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফারস অ্যাওয়ার্ড-২০১৮; ইন্টারন্যাশনাল ফটো কন্টেস্ট অন হেরিটেজ অব বাংলাদেশ, দোহা, কাতার-২০১৮; প্রথম এসপিএস ইন্টারন্যাশনাল ফটো কম্পিটিশন।
হাসিনুরের ফটোগ্রাফির হাতেখড়ি হয় আলিসাস ফ্রান্সেস থেকে ফটোগ্রাফির ওপর বেসিক ও ডিপ্লোমা ইন ফটোগ্রাফি কোর্সের মাধ্যমে। যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে স্নাতকে ভর্তি হন দেশের সবচেয়ে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মেকানিক্যাল, অর্থাত্ যন্ত্রকৌশল বিভাগে। বর্তমানে তিনি সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন কনফিডেন্স গ্রুপে। দেশের বিভিন্ন স্থানসহ এই ফটোগ্রাফার ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের প্রায় ২০-২২টি দেশ।
সিটিকোড ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল ফটো কন্টেস্টে প্রায় ৫০টি দেশের প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের ছবির মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করা ছবিটি সম্পর্কে ফটোগ্রাফার হাসিনুর রেজা চঞ্চল বলেন, ‘একদিন ঘুরতে বেরিয়েছিলাম পদ্মার চরে। হঠাত্ দেখি গ্রাম্য এক মা পরম যত্নে তার শিশু ছেলেকে সাবান মাখিয়ে গোসল করাচ্ছেন পদ্মার জলে। অকৃত্রিম প্রকৃতির মধ্যে মা-ছেলের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আমাকে প্রচণ্ড বিমোহিত করে। আর তখনই দৃশ্যটাকে ক্যামেরায় বন্দি করি। এ ছবিতে আমি আসলে তাদের মাঝের ভালোবাসার গভীরতাটাকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। আমার ফটোগ্রাফির প্রধান উদ্দেশ্যই হলো প্রকৃতিতে ঘটে যাওয়া প্রায় সকল ঘটনার অন্তর্নিহিত রহস্যটাকে সবার সামনে তুলে ধরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিতান্তই শখের বশে ফটোগ্রাফিতে এসে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এত্তগুলো দেশ থেকে আগত ফটোগ্রাফারদের মধ্যে অবস্থান করে নেওয়ার অনুভূতিটা আসলেই অসম্ভব রকম রোমাঞ্চকর! এতে ফটোগ্রাফির প্রতি আমার ভালোবাসা এবং কর্মস্পৃহা আরো বেড়ে যাবে।’