আজ আবাহনীর চাওয়া তিন পয়েন্ট

এএফসি কাপ ফুটবল

এএফসি কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে বিভিন্ন দেশের ৩৬টি ক্লাব ফুটবল দল আট গ্রুপে খেলছে। বাংলাদেশের আবাহনী খেলছে ‘ই’ গ্রুপে। এই গ্রুপে চার দলের মধ্যে ভারতের চেন্নাইন এএফসি এবং আবাহনী সাত পয়েন্ট করে সমান অবস্থানে রয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে।

 

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

আবাহনী এএফসি কাপ ফুটবলে কখনো দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পায়নি। প্রতিবারই কোনো না কোনো তুচ্ছ হিসাবনিকাশের ভুলে আবাহনীকে বিদায় নিতে হয়েছে। এবার আর যেন সেরকম না হয় তা মাথায় রেখে নেপালের মানাং মারসিয়াংদী ক্লাবের বিরুদ্ধে নিজেদের মাঠে ফুটবল যুদ্ধে নামবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে পৌনে ৬টায়।

এএফসি কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে বিভিন্ন দেশের ৩৬টি ক্লাব ফুটবল দল আট গ্রুপে খেলছে। বাংলাদেশের আবাহনী খেলছে ‘ই’ গ্রুপে। এই গ্রুপে চার দলের মধ্যে ভারতের চেন্নাইন এএফসি এবং আবাহনী সাত পয়েন্ট করে সমান অবস্থানে রয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে।

আজ জিতলেই আবাহনী দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে, তা নয়। তবে আশা জিইয়ে থাকবে। চেন্নাইন এফসি যদি কোথাও ভুল করে, হোঁচট খায়, পয়েন্ট হারায় তাহলে আবাহনী এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। এখন চেন্নাইন এফসির বিপক্ষে আবাহনী গোল গড়ে পিছিয়ে আছে। দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার হিসাব এখনো রয়েছে। তার আগে আবাহনী নিজেদের কাজটা সেরে রাখতে চায়।

স্বাগতিক আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেলেন তার সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। কোনো রাখঢাক না করে লেমস বললেন,‘অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই জিততে হবে।’

এই মানাং মারাসিয়াংদী ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনী গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছিল। নেপালের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল আবাহনী। আফগান ফুটবলার মাসিহ সাইঘানির গোল করে জয় তুলে এনেছিলেন। এবার আবাহনীর জন্য সুবিধা হলো ঘরের মাঠে খেলা।  চেনা পরিবেশ চেনা সমর্থক।

মামুনুল ইসলাম, রায়হান, ওয়ালী ফয়সাল, সোহেল রানা, নাবীব নেওয়াজ জীবন, সাদ উদ্দিন, জুয়েল, রুবেল, মানুম মিয়া, শহিদুল আলম সোহেলরা ঘাসের মাঠে খেলে অভ্যস্ত। নেপালে টার্ফের মাঠে খেলে জয় পেয়েছিল। নেপালী ক্লাব মানাং মারসিয়াংদীর কোচ সেরিং লফসাং হুংকার দিয়ে বললেন,‘আমরা টার্ফে খেললেও ঘাসের মাঠে খেলেও অভ্যাস করেছি। ভারতে ঘাসের মাঠে খেলেছি। এটা নিয়ে ভয়ের কিছু দেখছি না।’ আবাহনীর জন্য সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে তাদের ডিফেন্স লাইনে তপু, ফাহাদ এবং ব্রাজিলিয়ান ওয়েলিংটন। তিনজনই ইনজুরিতে। কোচ মারিও লেমন বললেন,‘আমার জীবনে আমি এমন পরিস্থিতি দেখিনি।’

এএফসি কাপে আবাহনী চার খেলায় দুটিতে জিতেছে। অপর দুটিতে ড্র করেছে। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির খেলায় আবাহনীর দুই ম্যাচ এখনো বাকি রয়েছে। আবাহনী শেষ ম্যাচ খেলবে  ভারতীয় মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে, ২৬ জুন।

আজ ভারতের মাটিতে চেন্নাইনের খেলা রয়েছে মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে। চেন্নাইনকে পেছনে ফেলতে হলে পয়েন্ট ব্যবধানে আবাহনীকে এগিয়ে থাকতে হবে। যদি এমন হয় চেন্নাইন এবং আবাহনী নিজ নিজ ছয়টি করে খেলা শেষে পয়েন্ট সমান হয় তাহলে সব হিসাব মেলানোর পর অ্যাওয়ে ম্যাচে (ঢাকার মাঠে) আবাহনীর বিপক্ষে দুই গোল করার সুবাদে চেন্নাইন এফসি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠে যাবে। সব কিছু নির্ভর করছে আজকের ম্যাচের উপর।