গুদামে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব

রাঙ্গুনিয়ায় ধান-চাল ক্রয় বিঘ্নিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

গুদামে জায়গার অভাবে রাঙ্গুনিয়ায় সরকারের ধান চাল ক্রয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে তিন হাজার একশত ৮৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি কেজি ৩৫ টাকা হারে মিলারদের মাধ্যমে ঐ চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য রয়েছে দুইশত ২০ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ২৬ টাকা ধানের দরে নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলছে। চন্দ্রঘোনার বাসিন্দা কৃষক ফজল কাদের জানান, গুদামে আর্দ্রতা নিরূপণে নানা প্রক্রিয়া ও ধান ক্রয়ে ধীরগতির কারণে কৃষকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সনাতন ত্রিপুরা জানান, উপজেলার সর্বমোট দুইটি সরকারি খাদ্যগুদামে সর্বোচ্চ দুই হাজার ছয়শ মেট্রিক টন ধান চাল ধারণক্ষমতা রয়েছে। ইতিমধ্যে সংগৃহীত ধান চালে গুদাম প্রায়ই ভরে উঠেছে। তাই বরাদ্দ অনুযায়ী ক্রয় করা যাচ্ছে না।

গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) আব্দুর রহমান খান জানান, পূর্ববর্তী গুদাম কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পর  ২৯ মে তিনি রাঙ্গুনিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ইতিপূর্বে দুই হাজার একশত ২৪ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। গুদামে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চাল ক্রয় কার্যক্রম বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কৃষকদের নিকট থেকে কিছু কিছু ধান ক্রয় কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। ইতিপূর্বে ৪১ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করার পরবর্তীতে ১৩ জুন অবধি  আরো ২৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার তালিকাভুক্ত  ৪৩৪ জন কৃষকের নিকট থেকে যথানিয়মে ধান ক্রয় কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত ধান চাল ক্রয়ের সময় ধার্য রয়েছে। ইতিমধ্যে অন্যত্র গুদামে খাদ্যশস্য স্থানান্তরে গুদাম খালি করে লক্ষ্যমাত্রার ধান চাল ক্রয় করা হবে।

১৪ ওষুধের দোকানকে জরিমানা

রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৪টি ওষুধের দোকানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে নষ্ট করা হয়েছে। এসব দোকানকে মোট ১ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল অবধি চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও দোভাষী বাজারে টানা এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বিতা চাকমা। চট্টগ্রাম ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ আদালতকে সহযোগিতা করেন। আদালতের অভিযানে দোভাষী বাজারে জনৈক উত্পল বড়ুয়ার মালিকানাধীন বাহার ফার্মেসির কোনো সরকারি অনুমোদন না থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ফার্মেসিসহ অন্য ১৪টি ওষুধের দোকানকেও জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ড্রাগ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য জরিমানা আদায় করা হয়েছে।