হজ পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এক শ্রেণির হজ এজেন্সির দ্বারা নানাভাবে প্রতারিত এবং নিগৃহীত হচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে পবিত্র হজব্রত পালনের সময় আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা খুবই তিক্ত এবং বেদনাদায়ক। পুরানা পল্টন এলাকায় অবস্থিত একটি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরা পালনের জন্য ৯৫ হাজার টাকা চার্জ নেওয়া হয়। কথা ছিল আমরা মোট ১১ জন ২২ মে সৌদিআরবের উদ্দেশ্যে সৌদিয়া এয়ার লাইন্সের একটি বিমানে যাত্রা শুরু করব। আমি ২০ মে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনার জন্য হজ এজেন্সিতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ফ্লাইট একদিন এগিয়ে এসেছে। অর্থাত্ আমাকে ২১ তারিখে যাত্রা শুরু করতে হবে। যা হোক, আমরা ২১ মে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সেখানে হজ এজেন্সির কোনো লোক খুঁজে পাইনি। ফলে আমাদের একক দায়িত্বে বিমানে চড়তে হয়। সৌদিআরবের জেদ্দা বিমান বন্দরে উপস্থিত হই রাতের বেলা। কিন্তু সেখানেও হজ এজেন্সির কোনো প্রতিনিধি পাইনি। আমরা নিজস্ব উদ্যোগে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। মিসফালাহ ব্রিজের কাছে বাস থেকে নেমে আমরা হজ এজেন্সির কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি পাইনি। পরে ফোন করা হলে একজন লোক আসেন। তিনি আমাদের হোটেলে পৌঁছে দেন। আমাদের এমন এক স্থানে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, যেখান থেকে হেঁটে হোটেলে পৌঁছুতে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমরা এই দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দেই।
একটি হোটেলে আমাদের তোলা হলো। হাজিদের খাবার সরবরাহ করেন এমন এক ব্যক্তি আমাদের হোটেলে পৌঁছে দেন। তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমি কিন্তু এজেন্সির লোক নই।’ আমাদের যে ডকুমেন্ট দেওয়া হয়েছিল, ঢাকা থেকে তাতে উল্লেখ ছিল এই হোটেলে আমরা ১২ রাত অবস্থান করব। কিন্তু তিন রাত যাবার পরই আমাদের হোটেল ছেড়ে দেবার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। আমি হজ এজেন্সির মালিকের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করি। তিনি বলেন, হোটেলে থাকতে হলে আরো ৪৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আমি তাঁকে বলি আমি কিন্তু কখনোই আপনাকে বলিনি আমি এতেকাফ করব। তিনি তাঁর লিখিত অঙ্গিকার অস্বীকার করে আমাকে হোটেল ছেড়ে দিতে বললেন। এই সময় তিনি মক্কায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তিনি একবারের জন্যও আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। যা হোক, আমাকে এ সময় অন্য একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হলো। দুই দিন সেখানে থাকার পর আবারো হোটেল ত্যাগের নোটিশ এল। আমি কাবা শরিফে চলে যাই এবং এতেকাফ শুরু করি। তিনি ৮/৯ দিনের হোটেল খরচ বাঁচানোর জন্য অঙ্গীকার ভঙ্গ করলেন।
যিনি আমাদের খাবার সরবরাহ করতেন তিনি এবার খাবারের দাম চাইতে শুরু করলেন। অথচ ঢাকা থাকা অবস্থায় হজ এজেন্সির মালিক বলেছিলেন সবাইকে দিনে একবার করে খাবার দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি সেই অঙ্গীকারও ভঙ্গ করেন। দুজন বাদে আমরা সবাই খাবারের টাকা দিয়ে দেই। এই দুজনের খাবারের টাকা আদায়ের জন্য এক পর্যায়ে সবার পাসপোর্ট আটকে দেওয়া হয়। আমরা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাই। এই দুজন পরবর্তী সময়ে দেশে ফোন করে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে হজ এজেন্সি মালিকের সঙ্গে আলাপ করালে তিনি তাদের কাছ থেকে খাবারের দাম নেননি। মক্কায় থাকা অবস্থায় খাবার সরবরাহকারী ছাড়া এজেন্সির কোনো প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করেননি। শুধু মদিনা যাওয়ার আগের দিন কয়েকটি স্পট দেখানোর জন্য একজন ব্যক্তি আমাদের গাড়ি দিয়ে নিয়ে যান এবং মদিনা যাওয়ার দিন গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য আসেন। হজ এজেন্সির এই প্রতারণার কারণে প্রত্যেক হজযাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।
এম এ খালেক
নূর গার্ডেন,
৩৯৪/৩ মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা