নরসিংদীতে বিপ্লব ও মনির হত্যাকাণ্ড

গাড়িচাপা দিয়ে সাজানো হয় দুর্ঘটনার নাটক 

শাহন শাহ আলম বিপ্লব ও মনির হোসেন। বিপ্লব এলাকায় একাধিক হত্যা মামলার আসামি আর মনির তার বডিগার্ড। বিপ্লব এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। বিপ্লব শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয় না, যারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিশোধ নেয় সে। কিন্তু এক সময় তার সঙ্গে ডিশ ব্যবসা করা মামুন নামে এক ব্যক্তি অন্যদের নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বেশ কয়েক বার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। অবশেষে মাইক্রোবাসে চাপা দিয়ে হত্যা করে। কিন্তু নাটক সাজায় সড়ক দুর্ঘটনার। তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সেই হত্যার রহস্য। এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। 

দুর্ঘটনা

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, দুই জন নিহতের ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ একটি দুর্ঘটনার মামলা করে এবং সে হিসেবে তারা আদালতে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা আদালতে না রাজি দেয় এবং মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তখন পিবিআই নতুন করে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে যে মাইক্রোবাসটি দিয়ে তাদের চাপা দেওয়া হয়েছিল সেটিতে বেশ কয়েক জন যাত্রী ছিল। পিবিআইর-এর তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলো সাধারণত দুর্ঘটনার পরে চালক পালিয়ে যায়  কিন্তু এখানে কেন যাত্রীরা পালিয়ে গেল। তারা এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ক্লু হিসাবে পায়। পিবিআই অনুসন্ধানে জানতে পারে যে, পূর্ববর্তী ব্যবসায়ীক শত্রুতা থেকে মামুনের নেতৃত্বে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া, মাসুম, সোহাগ ও মাসুদ মিয়াকে  গ্রেফতার করে। প্রাথমিক  জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ  দেয় এবং আদালতে দায় স্বীকার করে।

Feature-15

পিবিআই প্রধান বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চার জনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে।  বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থদাতা হিসেবে ওমর ফারুক মোল্লা নামে এক প্রবাসীর নাম উঠে এসেছে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধান চলছে । আগামী সপ্তাহে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।