রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে ব্র্যাক হোপ ফেস্টিভ্যাল। উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দর্শকরা উপভোগ করেছেন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, কনসার্ট, নানা রকম প্রদর্শনীসহ নানা কিছু। তবে এই প্রথম এখানে আসা দর্শকরা সাক্ষী হলেন একদমই ভিন্ন অভিজ্ঞতার। স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে আশা আর সম্ভাবনার যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
ব্র্যাকের ৫০ বছরের যাত্রার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় তিন দিনব্যাপী শুরু হয়েছে এই উৎসব। ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’, ‘সম্ভাবনার শক্তি’ এবং ‘যে পৃথিবী আমরা গড়তে চাই’ এই তিনটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা।
‘সম্ভাবনার শক্তি’ প্রতিপাদ্যকে উপজীব্য আজ উৎসবমুখর আমেজে কাটল ব্র্যাক হোপ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিন। এই দিনটির সকল আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল সকল বাধাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার গল্পের উপস্থাপনা, মানবশক্তির প্রতি সম্মাননা জানানো ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান।
হোপ ফেস্টিভ্যালে ‘আবেদ ভাই: জীবন দর্শন ও আশার জয়’ শিরোনামে একটি নিমগ্ন অভিজ্ঞতা (ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্স) আয়োজন করা হয়েছে। দর্শক ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবন দর্শন এবং ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ার গল্প দেখতে পাবেন ডিজিটালি চারদিকের দেয়ালে ভেসে উঠা বিশেষ এক তথ্যচিত্রে। জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে এসে সাফল্যের দেখা পাওয়া ৫০ জন মানুষের ছবি দেখতে দেখতে শেষ হবে এই অভিজ্ঞতা।
‘ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্স’ ব্যবহার করে তথ্যচিত্র দেখবার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে এবারই প্রথম আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মশালা, প্রদর্শনী, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় হোপ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনটি। এ দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হস্ত ও কুটির শিল্প কারিগরদের সফলতার গল্প নিয়ে ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস-এর পরিবেশনা। ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আজ যারা সফল উদ্যোক্তা তাদের দিনবদলের গল্প উঠে আসে এ সময়।
বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘ইশারা ভাষায়’ (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) আহসান হাবিব ও তার দলের একটি মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শকরা। যাত্রিক-এর পরিচালনায় ‘অলওয়েজ আ ওয়ে: ফিফটি স্টোরিজ অফ কারেজ অ্যান্ড হোপ’ শীর্ষক নৃত্যনাট্য পরিবেশন করা হয়। যেখানে তুলে ধরা হয় হার না মানা মানুষের গল্প।
আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল, লিঙ্গসমতা নিয়ে ‘সমতন্ত্র’ শীর্ষক নবনীতা চৌধুরীর বিশেষ পরিবেশনা। রেনেসাঁ, ফিডব্যাক, ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল, মিফতাহ জামান, ও গার্ল পাওয়ার ব্যান্ডের সংগীতের মুগ্ধতা আবিষ্ট করে উপস্থিত দর্শকদের।
ছিল আড়ং-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শো। এখানে সম্মাননা জানানো হয় বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রতি। এরই মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটে হোপ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনের।
দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মশালা, যেখানে শিশু, তরুণসহ সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলার জগৎ, আরবান গার্ডেনিং, রোবোবাইটস আর রিক্সা পেইন্টিংয়ের কর্মশালাগুলোতে অংশ নেয়ার জন্য আগে থেকেই অনলাইনে নিবন্ধন করেছিলেন আগ্রহীরা।
পুরো দিনজুড়ে উৎসব প্রাঙ্গণ ছিল শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবাসহ নানা বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর। ব্র্যাকের বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রতিষ্ঠানের নানা আয়োজনে দর্শনার্থীরা অংশ নিয়েছেন। আড়ংয়ের স্টলগুলোতে রিলিং প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত রেশম সুতা, তাঁত, নলি লাটাই প্রক্রিয়া, চরকার ব্যবহার মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
হোপ ফেস্টিভ্যালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সহআয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।