উপজেলার মালতী গ্রামের দিনমজুর আশরাফ আলীর ধর্ষিতা শিশুকন্যা আছিয়া আক্তার (৮) চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোমবার ঢাকায় মারা গেছে। গত বছর ৯ জুন নিজ বাড়ীতে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেছিল একই গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. মাহবুব রহমান। রক্তাক্ত অবসথায় প্রথমে তাকে এলেঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এবং পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি ঘটলে শিশুটিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সোমবার শিশুটির মৃতদেহ ঢাকা থেকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে শত শত লোক তার বাড়িতে এনে ভীড় জমায়। তারা ধর্ষকের কঠোর সাজার দাবিতে উত্তাল বিক্ষোভ শুরু করে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শুকুর মাহমুদ বিচারের আশ্বাস দিয়ে লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে ওয়ানস্টোপ ক্রাইসিস সেলের অফিসার মো. বায়জিদ বলেন, ধর্ষনের ফলে শিশুটির নিম্নাঙ্গ ছিন্নভিন্ন হয়ে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ৮টি সেলাই করার পরও সুস্থ্য করা যায়নি। শিশুটির বাবা আশরাফ আলী বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর আমি থানাটি মামলা করেছিলাম। আসামিও গ্রেফতারও হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে সে এখন জামিনে মুক্ত। তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন বলেন, মামলা দায়েলের পর আসামি মাহবুবকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশীট দেওয়া হয়েছে। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে বতর্মানে সে জামিনে মুক্ত। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।