সড়কে বখাটেদের বাইক ‘রেস’ ও একটি করুণ মৃত্যু

রাজশাহীতে বিভিন্ন সড়কে বখে যাওয়া কিশোর-যুবকদের ‘মোটরবাইক রেস’ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নিজের মোটরবাইক নিয়ে দুরন্ত গতিতে রেস দিতে গিয়ে স্থানীয় স্কুলছাত্র জুবায়ের হোসেন অন্তরের (১৬) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নগরীর আলীগঞ্জ পশ্চিমপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে অন্তর নগরীর হড়গ্রাম টেকনিক্যাল বিজনেস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়ত। 

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার গ্ল্যামার ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি নিয়ে অন্যদের সঙ্গে মাঝে মাঝেই সড়কে ‘বাইক রেস’ দিতে বের হত অন্তর। তার এই বিপজ্জনক নেশার বিষয়টি পরিবারেরও অজানা ছিল না। কিন্তু ছেলের জেদের কাছে হার মানে বাবা-মা।

রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কোর্টস্টেশন- দারুসা সড়কে ফুফাত ভাই ও কয়েক বন্ধুর সঙ্গে ৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে ‘বাইক রেসে’ বের হয় অন্তর। তারা ‘হাওয়ার গতিতে’ বাইক রেস দিতে শুরু করে নতুন এ সড়কটিতে। স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হলেও তাদের থামাতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে দারুসা সড়কের সুতাহাটি এলাকায় আকস্মিকভাবে সামনে থেকে আসা মুরগিবোঝাই একটি নসিমনের সঙ্গে জোরে ধাক্কা লাগে অন্তরের মোটরসাইকেলের। বাইকসমেত সে ‘উড়ে’ গিয়ে সড়কের অন্যপাশে আছড়ে পড়ে। মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। তার এই পরিণতি দেখে অন্য বন্ধুরা নিজ নিজ বাইক নিয়ে সটকে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর সড়কে এ ধরনের কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া দাপাদাপিতে অতিষ্ঠ নগরীর মানুষ। অনেক বাবা-মা তাদের স্কুলপড়ুয়া শিশুপুত্রের হাতেও তুলে দিচ্ছেন মোটরবাইকের চাবি। ফলে তাদের কারণে দুর্ঘটনায় অন্যরাও যেমন হতাহত হচ্ছে তেমন নিজেরাও মারা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে আরএমপির ডিসি ট্রাফিক অনির্বাণ চাকমা বলেন, সড়কে অন্তরের মতো কিশোর বালকদের অকালমৃত্যু খুবই দুঃখজনক। এসব ঘটনা ঠেকাতে পরিবারকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের বাইক কিনে দেয়া বন্ধ করতে হবে। তবে ট্রাফিক পুলিশ বাইক রেসের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে আরও তত্পর হচ্ছে।