বাফুফের ভবনের ফুটবল ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের মধ্যে আনন্দের সীমা নেই। উৎসব মুখরিত সময় কাটাচ্ছেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। বৃহস্পতিবার রাতে কমলাপুর স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। কমলাপুর স্টেডিয়ামে ফাইনালে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়।
ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণ শেষে মাঠ থেকে খেলোয়াড়রা বাফুফে ভবনে চলে যান। আর বাফুফের সদস্য, নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বাসায় চলে যান। গতকাল বিকালে ফুটবল ভবনে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেছেন কিরণ। ২০ মিনিটের সাক্ষাত।
মেয়েরা তাকে পেয়ে দারুণ খুশি। জানতে চেয়েছিলেন মেয়েরা তার কাছে কিছু চায় কি না। চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক শামসুন্নাহার জুনিয়র, রিপা, শাহেদা, গোলকিপার রূপনা চাকমা, স্বপ্না রানি, সোহাগী কিসকু, নাসরিন, আফিদা, ইতি, আকলিমাদের চাওয়া শাড়ি দিতে হবে। কিরণ জানতে চেয়েছিলেন তোমরা আদৌ শাড়ি পরবে কি না। মেয়েরা বলল-তারা শাড়ি পরবে। কী ধরনের শাড়ি চাই, জানতে চাইলেন। মেয়েরা কাতান শাড়ি চেয়েছেন। কাতান শাড়ি মূল্যবান। তাতেও আপত্তি নেই। শাড়ি পরুক, না পরুক, সেটা নিয়ে কথা নেই। শাড়ি চেয়েছে শাড়ি দিতে হবে-এটাই কিরণের কাছে সবচেয়ে বড় কথা।
পরে কিরণ জানালেন, ‘ওরা কখন শাড়ি পরবে? সারাক্ষণ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। শাড়ি পরতে কোনো সমস্যা নেই। চাইলে দিতে হবে। তা না হলে মন খারাপ হয়ে যাবে। এত ছোট ছোট মানুষ। তাদের মনের একটা আবদার আছে না?’
চ্যাম্পিয়ন হলে কিরণের কাছে মেয়েদের একটা বাড়তি আবদার থাকে। কিরণের কাছে চাওয়া গিফটগুলো ব্যক্তিগত। খেলোয়াড়দের কথা হচ্ছে কিরষডর পকেটের টাকায় কিনে দিতে হবে। গত সেপ্টেম্বরে নেপালে সিনিয়র নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থ্রি-পিস আবদার করেছিল।। সেটা দেওয়া হয়েছে। আর খেলা চলাকালীন চকলেট আনতে বলা হয়েছিল ঢাকা থেকে ১ লাখ টাকার চকোলেট কিনে পাঠানো হয় নেপালে।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর একাধিক প্রতিষ্ঠান নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিতে চায়। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি কোন প্রতিষ্ঠানের সংবর্ধনা নেওয়া হবে।
কিরণ জানিয়েছেন, এখন খেলোয়াড়দের সংবর্ধনার চেয়ে আর্থিক বিষয়টা গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিকভাবে খেলোয়াড়রা কতটা লাভবান হচ্ছে সেটা বড় বিষয়। খেলোয়াড়দের মন-মানসিকতায় শুধু ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার মতো পরিস্থিত নেই। তারা কষ্ট করছে। পরিবারের জন্য পারিশ্রম করছে। দিন শেষে যদি পরিবারকে কিছু তুলে দিতে পারে—সেটাই তাদের কাছে আনন্দের খবর।’
কিরণ বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবর্ধনা দিয়েছেন। অর্থ দিয়েছেন তিনি। সেনাবাহিনী অর্থ দিয়েছে, সংবর্ধনা দিয়েছে। আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী ৫০ লাখ টাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটা এখনও পায়নি বাফুফে। আরেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিক ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটিও পায়নি বাফুফে। তবে মানিক সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে জানিয়েছিলেন তিনি একটা ডেট নির্ধারণ করে দিয়ে দেবেন। আর বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী টাকায় পায়নি বাফুফে। তবে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানিয়েছেন যারা এখনো দেয়নি তারা দিয়ে দেবেন। আশা করি এটা নিয়ে সমস্যা নেই।’ সাফ দলের অধিনায়ক শামসুন্নাহার সিনিয়র সাফে খেলেছিলেন। তিনিও জানালেন যারা আমাদরেকে টাকা দেবন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা যদি দেন তাহলে আমরাও সেটি কাজে লাগাতে পারব।’