বালিশ নিয়ে সংসদীয় কমিটির প্রশ্নের মুখে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বালিশ কেনা ও সেগুলো ভবনে তোলায় অবিশ্বাস্য খরচ দেখানোসহ দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে এনিয়ে কমিটির সদস্যদের বহু প্রশ্নের মুখে পড়েন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তাকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি বৈঠকে যান। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কমিটির প্রশ্নের মুখে পড়েন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য- ইকবালুর রহিম, ডা. হাবিবে মিল্লাত, মোজাফ্ফর হোসেন, শিরীন আহমেদ, সেলিমা আহমাদ ও হাবিবা রহমান খান অংশ নেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রূপপুর বিদ্যুেকন্দ্রে কেনাকাটায় দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য হাবিবে মিল্লাত প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। একটি বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা উঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা কীভাবে হয়, তিনি সেই প্রশ্নও রাখেন। কমিটির সভাপতি রুহুল হক পরে এ বিষয়ে বিজ্ঞানমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চান।

জবাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ২১টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ এসব ভবন নির্মাণের কাজ করছে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় কেবল প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিচ্ছে। এপর্যায়ে সংসদীয় কমিটি প্রশ্ন রাখে, গণপূর্ত নিজেদের ইচ্ছামত খরচ করবে আর বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় কিছু করবে না বা তদারক করবে না? জবাবে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি তদারকি করতে হলে আলাদা প্রকৌশল বিভাগ প্রয়োজন, সেটা নেই। এছাড়া পূর্ত বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান, এখানে তাদের কাজ সেভাবে তদারকি করার সুযোগও নেই। এই কাজ তারা করছে, কোনও অডিট আপত্তি এলে তার জবাবও পূর্ত বিভাগকেই দিতে হবে।

সংসদীয় কমিটির প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উচ্চ আদালতেও একটি রিট হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।