নারায়ণগঞ্জে শহিদ মিনার বাইকের দখলে

নারায়ণগঞ্জ সিটি ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহিদ মিনারের আশেপাশে ফুটপাতে বসানো অবৈধ পার্কিং ও হকার সরানো হয়েছে আগে থেকেই। তবে ফুটপাত হকারমুক্ত করা গেলেও মোটরসাইকেলের অবৈধ পার্কিং থেকে মুক্তি মিলছে না শহিদ মিনারের।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ প্রশাসনের অ্যাকশনের পর শহরের ফুটপাত একেবারেই ফাঁকা। পথচারীরা অবাধে পার হচ্ছেন রাস্তা। নেই অযাচিত ভিড় কিংবা যানজট। তবে মাঝে মাঝেই দেখা যায় ফুটপাতের অর্ধেক জুড়ে পার্কিং করে রাখা মোটরবাইক। বিশেষ করে শহরের মার্ক টাওয়ার এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এর আধিক্য দেখা মেলে। একই অবস্থা শহরের চাষাঢ়া শহিদ মিনারেও। শহিদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় যেখানে মিনারের আশেপাশে চা সিগারেটের দোকান উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে গোটা দশেক মোটরবাইক শহিদ মিনারের ভেতরেই রেখে দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত বেদিটিও। মাত্র একদিন পূর্বেই যেই বেদি নিয়ে এত আলোচনা নারায়ণগঞ্জ জুড়ে, সেখানে মোটরবাইক পার্কিং করা হচ্ছে প্রকাশ্য।

শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মোবাশ্বির জানান, শহিদ মিনারকে এ সব অবিবেচক বাইক চালকেরা পার্কিং স্পেস বানিয়ে ফেলেছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না নাসিক কিংবা পুলিশ প্রশাসন। একই অবস্থা শহরের ফুটপাত জুড়ে। নো পার্কিং সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও এরা তা উপেক্ষা করে বাইক পার্কিং করে রাখছে। শহরের চাষাঢ়ায় মার্ক টাওয়ারের ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, বাইকের অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া প্রয়োজন। এদের যন্ত্রণায় রাস্তায় হাঁটা যায় না। অনুরোধ করলে উল্টো কথা শোনানোর স্পর্ধা দেখায়। এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা প্রয়োজন।

উল্লে­খ্য, গত বছর শহিদ মিনারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ পার্কিং করা চালকদের জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। সে সময়ে কিছুদিন পার্কিং বন্ধ থাকলেও আবারও তা চালু হয়।