মমতাজউদদীন আহমদ নেই; কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, মানুষের হূদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। প্রিয় শিক্ষক ও নাট্যকারকে এভাবেই স্মরণ করলেন তার শুভার্থী, বন্ধু ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
মমতাজউদদীন আহমদের নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন শিক্ষক, অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও সুবক্তা। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেছেন শুরু থেকে।
গতকাল মঙ্গলবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে নাগরিক স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার। আলোচনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক, নাট্যজন ড. ইনামুল হক, সাংবাদিক আবেদ খান, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, নাট্যজন গোলাম রব্বানী, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান (উপদেষ্টা) নওয়াজিশ আলী খান, অভিনেতা কেরামত মাওলা, অভিনেত্রী আফরোজা বানু, অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, কবি আসাদ মান্নান, অভিনেতা আহসানুল হক মিনু, রেজাউল একরাম রাজু, আরমান পারভেজ মুরাদ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আকতারুজ্জামান, পথনাটক পরিষদের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, বাবলী মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মমতাজউদদীনের প্রিয় নজরুল সঙ্গীত ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমরে দিব না ভুলিতে’ গানটি গেয়ে শোনান স্বনামধন্য শিল্পী ফেরদৌস আরা।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সহজভাবে জীবনের কথা, জীবনের দর্শনের কথা বলতেন তিনি। অসাধারণ রসবোধ ছিল। মানুষকে হাসাতে হাসাতেই তিনি জীবন দর্শনের কথা বলতেন, নাটকে, অভিনয়ে। রুবানা হক বলেন, মমতাজউদদীন আহমদ একজন পরিপূর্ণ জীবন কাটিয়ে গেছেন। বেঁচে থাকলে প্রিয় বিয়োগ হবেই। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সংস্কৃতি জগতের এই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব আমাদের নাটক, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।