জেলার হাতিয়া উপজেলাসহ উপকূলীয় নদীপথ এলাকার বিভিন্ন অপরাধের হোতা জলদস্যু বাহিনীর প্রধান ফরিদ কমান্ডারকে (৪৫) আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হাতিয়ার বয়ারচরের সোলেমান বাজারের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে চারটি বন্দুক, একটি রিভলবার, একটি পাইপগান, গুলিসহ অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ফরিদ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের সালেহ আহমদের ছেলে। তবে পরিবারের দাবি ফরিদ রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। শত্রুতার জেরে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
ফরিদ কমান্ডারকে গ্রেফতারের পর সকাল সাড়ে ৮টায় নোয়াখালী সার্কিট হাউসে কোস্টগার্ডের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, ফরিদ নিজ বাড়িতে বসে ডাকাতির জন্য বৈঠক করছিলেন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিনি নোয়াখালী উপকূলের জেলেদের আতঙ্ক। দীর্ঘদিন মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নৌকায় ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন তিনি। গত ইলিশ মৌসুমে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০০ জন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বছরও ইলিশ মৌসুম শুরুতে ফরিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সদর (সুধারাম), সুবর্ণচর, হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন থানায় ২২টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোস্টগার্ডের হাতিয়া স্টেশনের কমান্ডার লে. মাহমুদ সাব্বির প্রমুখ।
এদিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে দুপুরে ফরিদ কমান্ডারের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও ছেলে ফয়জুর রহমান জীবন পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন— বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় ফরিদকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়ে আসে। এ সময় তার কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড পুরাতন অকেজো কতগুলো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এমন মিথ্যা ও সাজানো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও এর বিচার দাবি করেন তারা। তারা আরো বলেন, ফরিদ রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং উপজেলা যুবলীগের সদস্য। তিনি পেশায় একজন মত্স্য ব্যবসায়ী। হাতিয়া উপজেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। রামগতীর পক্ষে ফরিদ সক্রিয় বিধায় তাকে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।