চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিয়ে উয়েফার সিদ্ধান্তে খুশি ক্লপ

গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফাইনালে বিশৃঙ্খলার জন্য উয়েফাকে দায়ী করে  যে রিপোর্ট স্বাধীন কমিশন পেশ করেছে তার প্রতি পূর্ণ সর্মথন জানিয়ে লিভারপুল ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছেন এই ঘটনায় তার দলের সমর্থকরা কোনভাবেই দায়ী নয়।

গত বছর ২৮ মে স্তাদে দ্য ফ্রান্সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু সমর্থকদের মাঠে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ম্যাচটি ৩৭ মিনিট দেরিতে শুরু হয়। টিকিট থাকা সত্ত্বেও এদিন অনেকেই মাঠে প্রবেশ করতে পারেনি, অতিরিক্ত দর্শকের চাপ ঠেকাতে ফরাসি পুলিশকে টিয়ারশেল পর্যন্ত নিক্ষেপ করতে হয়েছে। যে কারণে হাজারো দর্শক মাঠে না ঢুকে বাইরেই প্রতিবাদ করতে থাকে। 

ইউরোপীয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনার পিছনে লিভারপুলের সমর্থকদের দায়ী করেছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের প্রতিবাদ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন নিরপেক্ষ রিপোর্টের ভিত্তিতে উয়েফা পিছু হঠতে বাধ্য হয়।

উয়েফার গঠিত স্বাধীন কমিশন এই ঘটনার পিছনে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশকেই দায়ী করেছে। সমর্থকদের সঙ্গে একটু বেশি কঠোর মনোভাব পোষণ করায় ফরাসি পুলিশও তোপের মুখে পড়ে।

লিভারপুলের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লপ বলেছেন, ‘আমি মনে করি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত অফিসিয়ালি আমরা মুক্ত হলাম। সবাই জানে আমাদের সমর্থকরা মাঠে কি ধরনের আচরণের শিকার হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি কমিশনের রিপোর্ট সঠিক হয়েছে। ম্যাচের পর বিষয়টি নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে সবাই জানে আসলে কি হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ম্যাচে সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লিভারপুলের একটি প্যানেল উয়েফার কাছে ‘সঠিক করণীয়’ হিসেবে ২১টি সুপারিশ পেশ করেছে। ফাইনাল ম্যাচটি শুরুতে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসনের কারণে তা সরিয়ে প্যারিসে নেওয়া হয়।

ক্লপ বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাস আগে উয়েফা ভেন্যু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যা সত্যিই কঠিন ছিল। ঐ সময় চাপের মধ্যে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মত সময় ছিলনা। আশা করবো ভবিষ্যতে তারা এই বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা নিবে।’