তাহলে কি আছে লিওনেল মেসির ভাগ্যে? চুক্তি নবায়ন করে আগামী মৌসুমেও তিনি পিএসজিতেই থাকবেন তো? নাকি পিএসজি ছেড়ে পাড়ি জমাবেন অন্য কোথাও? এই মুহূর্তে এই দুই রকম সম্ভাবনার কথাই উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে। আর এই দুই সম্ভাবনার নিচে চাপা পড়ে পিএসজির সঙ্গে মেসির চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ঝুলে গেছে। ফ্রান্সের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘লেকিপ’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, পিএসজির সঙ্গে মেসির নতুন চুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত।
বার্সেলোনা ছেড়ে ২০২১ সালে দুই বছরের চুক্তিতে পিএসজিতে যোগ দেন মেসি। সেই অনুযায়ী আগামী জুনেই শেষ হয়ে যাবে পিএসজির সঙ্গে মেসির চুক্তির মেয়াদ। মানে, মেসিকে পিএসজিতে থাকতে হলে নতুন করে চুক্তি নবায়ন করতে হবে। কয়েক দিন আগে জানাও গিয়েছিল, মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করবে পিএসজি। মেসিও নাকি ফরাসি ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে রাজি। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নতুন চুক্তির ব্যাপারে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছে না। উলটো দুই পক্ষের মধ্যে চলছে দরকষাকষি! না, শুধু আর্থিক বিষয়ে নয়, দরকষাকষি হচ্ছে নানা বিষয় নিয়েই।
‘লেকিপ’-এর বরাত দিয়ে ফ্রান্সেরই অনলাইনভিত্তিক স্পোর্টস নিউজ চ্যানেল ‘গেট ফ্রেঞ্চ ফুটবল নিউজ’ জানিয়েছে, চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সম্প্রতি প্যারিসে পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক লুইস কাম্পোসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। মেসিই তার বাবাকে পাঠিয়েছিলেন চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে। কিন্তু লুইস কাম্পোসের সঙ্গে হোর্হে মেসির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। অনেক বিষয় নিয়ে নাকি দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি।
জানা যাচ্ছে, জানুয়ারিতেই চুক্তির কাগজপত্র তৈরি করে ফেলেছিল পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটি আশা করেছিল মেসি দ্রুতই চুক্তিপত্রে সই করবেন। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, পিএসজির তৈরি চুক্তির খসড়ার অনেক বিষয়ই গ্রহণ করেননি মেসি। তাই মেসি তার বাবাকে পাঠিয়েছিলেন সেই অসংগতিগুলো নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু কাম্পোস-হোর্হে মেসির বৈঠক নিষ্ফলাভাবেই শেষ হয়েছে। তবে ‘গেট ফ্রেঞ্চ ফুটবল নিউজ’-এর দাবি, দ্রুতই আবার বৈঠকে বসবে দুই পক্ষ। ‘গেট ফ্রেঞ্চ ফুটবল নিউজ’ এটাও জানিয়েছে, প্রথম দিকে দুই পক্ষ নতুন চুক্তির বিষয়ে নমনীয়ই ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেসি দলবদলের অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গুঞ্জন আছে, মেসিকে আনতে চাইছে সৌদি আরবের একটি ক্লাব। মেসিকে পেতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহামের ইন্টার মিয়ামিও। বেকহাম তো অনেক আগেই মেসিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন। মেসির পরিবারও নাকি ফ্লোরিডায় গিয়ে বসবাস করতে ইচ্ছুক। মেসিও নাকি এই বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত জল কোন দিকে গড়ায়!