শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ প্ল্যাটফর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম বড় যুব সংগঠন ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদানি এভিনিউ সংলগ্ন ‘ইচ্ছে বাড়ি’তে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে আয়োজিত ‘আসুন আলাপ করিয়ে দেই’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ইয়ুথ গ্লোবালের চেয়ারম্যান সীমা হামিদ।
গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা শিল্প-সংস্কৃতিবিষয়ক ১৪টি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে-সেতার গুরুকুল, বেহালা গুরুকুল, বাঁশি গুরুকুল, আমার রবীন্দ্রনাথ, আমার নজরুল, অভিনয় গুরুকুল, চলচ্চিত্র গুরুকুল, ফাইন আর্টস গুরুকুল, বাচিকশিল্প গুরুকুল, নৃত্য গুরুকুল, তবলা গুরুকুল, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গুরুকুল, লোকগান গুরুকুল, সঙ্গীত গুরুকুল।
প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে শিল্প-সংস্কৃতির ১৪টি বিশেষায়িত শাখা নিয়ে কাজ করছে।
আয়োজকরা জানান, ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি প্লাটফরম থেকে বছরে একজন শিক্ষার্থী বা গবেষককে এগিয়ে দিতে বৃত্তি দেয়া হবে। এছাড়া ইয়ুথ গ্লোবালের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর ওই ১৪টি প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিটি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হবে।
সীমা হামিদ জানান, এই প্ল্যাটফর্মগুলো জন্য তার ফাউন্ডেশন এক্সেলেটর হিসেবে কাজ করবে। এগুলো এতদিন এসব বিষয়ের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছিল। তার ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষার পাশাপাশি তারা শিল্পগুলোর ভিত্তি মজবুত করা ও সম্প্রসারণের কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে যারা যথাযথ মেধা ও আগ্রহের পরিচয় দিতে পারবেন, তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রতি বছর আমরা স্কলারশিপের আওতায় নিয়ে আসব। অর্থাৎ মোট ১৪টি স্কলারশিপ আমরা দেব। স্কলারশিপ হতে পারে দেশে-বিদেশে অধিকতর তালিমের জন্য, হতে পারে নিবেদিত হয়ে রেয়াজ করার জন্য। আবার ওই বিষয়ে গবেষণার জন্যও হতে পারে।’
সীমা হামিদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গুণী মানুষদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে আরও গুণী মানুষ তৈরিতে উৎসাহ দেয়া যায়। ফলে আমরা তাদের সম্মাননাও দেব।’
ইয়ুথ গ্লোবাল অনলাইনের পাশাপাশি, দেশে ও বিদেশের সাংস্কৃতিসেবীদের সঙ্গে বাংলাদেশি শিল্পীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচয় ও মেলবন্ধন গড়তেও কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে গুরুকুল অনলাইন নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠান ‘আর্ট এন্ড কালচার গুরুকুল’ এর প্রধান গুরু ও সম্পাদক পণ্ডিত অসিত দে বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতি সেই অর্থে বাংলাদেশে এখনও ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে ওঠেনি। প্রযুক্তি পরিবর্তনের কারণে নানামুখী নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় এটিকে একটি পর্যায়ে নিতে ব্যক্তি, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশন বিশেষ করে সীমা হামিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এছাড়াও এতে আরও বক্তব্য রাখেন, নৃত্য গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ইমন কুমার দে, চলচ্চিত্র গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর নাজমুন নাফিজ খান, লোকগান গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর কামরুজ্জামান রাব্বী, আমার নজরুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর প্রমিতা দে, বাচিকশিল্প গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হাসান সালেহ জয়, বেহালা গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সংহিতা চক্রবর্তী, অভিনয় গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রউফুর রহিম প্রিত্থিশ, আমার রবীন্দ্রনাথের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর দীপ্র নিশান্ত, তবলা গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রতন কুমার দাস, বাঁশি গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মুস্তাকীম আবির ও আর্ট অ্যান্ড কালচার গুরুকুলের কার্যনির্বাহী প্রধান নিশিত দে।
অনুষ্ঠানে শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন খাতের প্রায় ২০০জন শিক্ষক, শিল্পী, কলাকুশলী, সমালোচক উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী সমাবেশের পরে আর্ট অ্যান্ড কালচার গুরুকুলের শিক্ষকরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। এর মধ্যে মুস্তাকীম আবিরের একক বাঁশি পরিবেশনা, সংহিতা চক্রবর্তী ও নিশিত দে'র সেতার-বেহালা যুগলবন্দি ও তবলা বাজিয়ে শোনান প্রশান্ত ভৌমিক।