ক্যাম্পাসে ফিরছেন নির্যাতনের শিকার ইবির সেই শিক্ষার্থী, করবেন মামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে রাতভর নির্যাতনের শিকার নারী শিক্ষার্থী শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ক্যাম্পাসে ফিরবেন। হল কতৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি তাকে তলব করেছেন। তবে এখনই তিনি ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না। সেই সঙ্গে শীঘ্রই তিনি নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। 

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে আটটার দিকে মুঠোফোনে দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকালে বাবাকে নিয়ে পাবনা (গ্রামের বাড়ি) থেকে ক্যাম্পাসে যাবো। হলের প্রভোস্ট স্যার সকাল সাড়ে ১১ টার মধ্যে ডেকেছেন। তবে এখনি ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো না। আমি এখনো শারীরিক ও মানুষিকভাবে অসুস্থ। মুখের ভেতরে আঘাত করা হয়েছিল। সেখানে কালচে দাগ হয়ে গেছে। ওষুধ খাচ্ছি।

অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা

বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ খোঁজ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা ম্যাম এবং প্রক্টর স্যার খোঁজ নিয়েছেন। তারা সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের কাছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছি। তাহলে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো।

তিনি আরও বলেন, আমার উপর যারা নির্যাতন করছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। এ নিয়ে কাজ চলছে। অন্তরা, তাবাসসুম এবং মাবিয়া আপুসহ গণরুমের কয়েকজনের নামে। অনেকের নাম জানি না চেহারা চিনি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে জানাবো।

অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা

কোনো ধরনের চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ধরনের চাপ নেই। আমার পরিবার আমার পাশে আছে। তারাও সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার চান। 

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা কি চান ভবিষ্যতেও এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটুক। তাদের কাছে চাওয়া তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ করবেন। 

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে করা তদন্ত কমিটি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছ থেকে ইতিমধ্যে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে। আশা করছি এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিখুঁতভাবে কেন্দ্রে পাঠাতে পারবো। 

অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা যেহেতু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারছে না। তাই তিনি শাখা ছাত্রলীগের মিছিল মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা অব্যাহতি দিতে পারি না। কেউ দোষী হলে তার শাস্তির জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করতে পারি।

অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডল বলেন, ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা প্রথমে ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্তদের কথা আলাদাভাবে শুনবো। এবং পরবর্তীতে মুখোমুখি করেও উভয় পক্ষের কাছ থেকে শুনবো। তবে তদন্তের জন্য একটু বেশি সময় পেলে ভালো হতো। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাপ নেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি।

অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, হল কতৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ডেকেছেন। ওসি সাহেবকে বলা আছে, আমিও সঙ্গে থাকবো। আমরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। ইবি থানা সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিবে।