প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড করেছে বসুন্ধরা কিংস। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কিংস দুর্দান্তভাবে এগিয়ে চলেছে। এবার লিগের প্রথম পর্ব শেষ করল জয় দিয়ে।
টানা ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড আর কোনো ক্লাবের নেই, বললেন কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। একেবারে লিগের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টানা জয়ে কিংসের এখন তিন দশে ত্রিশ। ত্রিশ পূর্ণ হয়েছে কিংসের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকা আবাহনীকে হারিয়ে।
গতকাল বিকালে কুমিল্লায় ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে কিংস ২-১ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে খানিকটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। জোড়া গোল করেন ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল দামাসেনা এবং দুই গোলের মাঝে গোল করে সমতা এনেছিলেন আবাহনীর ডিফেন্ডার রেজাউল করিম রেজা। মূল্যবান পয়েন্ট পেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন ইমরুল হাসান। বলছিলেন,‘চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছি, বলব না। দ্বিতীয় পর্বের শুরুটা ভালোভাবে করতে পারব।’
ইমরুলের কথা হচ্ছে আগে ট্রফি নিশ্চিত হবে তারপর কথা। এর আগে চ্যাম্পিয়ন বলাটা তার কাছে বোকামি। টেবিলে ব্যবধান ৯ পয়েন্ট। যদি আবাহনী তাদের শেষ ম্যাচ জিতে তাহলে তাদের হবে ২১। সেই হিসাবেই ৯ পয়েন্ট ওপরে বসুন্ধরা কিংস। অনেক দূরে আবাহনী। বসুন্ধরা কিংসের জন্য এখন করণীয় হচ্ছে তারা শুধু তাদের ম্যাচ খেলে জয় তুলে নিবে। অন্যদিকে মোহামেডান, শেখ জামাল, আবাহনী কে কী করল, তাতে কিংসের কিছুই যায় আসে না। লিগের দ্বিতীয় পর্বের ১০ ম্যাচের মধ্যে সাত ম্যাচ জিতলেই যথেষ্ট। অন্যদিকে আবাহনীকে নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে আর প্রার্থনা করবে কখন বসুন্ধরা ম্যাচ হারে। লিগের ট্রফি আবাহনীর জন্য অনেক দূরে চলে গেছে। যদিও আবাহনী মুখে বলছে লিগ এখনো শেষ হয়নি। তবে ধরেই নেওয়া যায় তাদের কাছে লিগ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ।
আবাহনী জানত লিগে ফিরতে হলে কিংসকে হারাতে হবে। সেই অঙ্কের হিসাব মিলিয়ে কাল মাঠে নেমেছিল আবাহনী। আর কিংস চেয়েছিল আবাহনীকে হারাতে পারলে পেছনে তাকাতে হবে না। উত্তেজনার পারদ ছড়ানো সেই ম্যাচে ভুটান থেকে আসা চার রেফারি খুব দক্ষতার সঙ্গে খেলা চালিয়েছেন। কোনো বিতর্ক হতে দেননি। দেশি রেফারি হলে কালকের ম্যাচের ভাগ্যে কি ঘটত সেটা বলা কঠিন। ভুটান থেকে চার জন এসেছিলেন এলিট শ্রেণির পরীক্ষা দিতে। কঠিন ম্যাচ দরকার ছিল সেটা পেয়ে গেল। একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়নি। পরিচ্ছন্ন একটা ম্যাচ উপভোগ করেছেন কুমিল্লার দর্শক।
আবাহনী রক্ষণের ভুলের সুযোগ বসুন্ধরা কিংস গোলটা পেয়েছিল অপ্রত্যাশিতই ভাবেই। ২৫ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক রবসনের ক্রসের বল চোখ বন্ধ করে মিগুয়েল আবাহনীর জালে পাঠিয়েছেন ১-০। দুই ডিফেন্ডারে মাঝখান দিয়ে বল গেল কেউ যেন দেখলই না। পিছিয়ে থেকে আবাহনী ঝেড়ে উঠল। গোল পেতে সময়ও লাগল না। ৩৬ মিনিটে কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসের কর্নারের বলটা রক্ষণ থেকে উঠে আসা ডিফেন্ডার রেজা লাফিয়ে উঠে কিংসের জালে ফেললেন ১-১। সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন আবাহনী থেকে আসা কিংসের ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা। রেজাউল আবাহনী ৬০০ গোলের ঘর পূর্ণ করলেন। ৭১ মিনিটে আবাহনীর ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগে আবার সেই ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল দামাসেনা। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করলেন, ২-১। গোপালগঞ্জে আজমপুর এফসি এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে।