আচমকাই বাফুফের বেতনভুক্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ সুইজারল্যান্ডে ফিফার সদর দপ্তর ঘুরে এসেছেন। কী কারণে গিয়েছিলেন— তা জানা যায়নি। সোহাগের সফরসঙ্গী ছিলেন কম্পিটিশন ম্যানেজার জাবের বিন আনসারী, হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা অনুপম সরকার, গ্রাসরুট কর্মকর্তা হাসান মাহমদু ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি বাফুফের প্রতিনিধি হয়ে জুরিখে ফিফার দপ্তর ঘুরে ঢাকায় ফিরেছেন। তারা কেন হঠাৎ করে ফিফার অফিসে গিয়েছিলেন তা জানা গেল না। জাবের বিন আনসারিকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি জিএস স্যার (জেনারেল সেক্রেটারি) বলবেন।’ আপনি সুইজারল্যান্ডে ফিফার অফিসে গিয়েছিলেন কি না? হ্যাঁ অথবা না বলুন। জাবের বললেন, ‘আমি কোনো কথা বলতে পারব না। জিএস স্যারকে ফোন করুন, যা বলার উনি বলবেন।’ তার এই জবাবই বলে দেয় তিনি সুইজারল্যান্ড ঘুরে এসেছেন। এককথায় ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করার সাহস পেলেন না। ফিফার সদর দপ্তরে বাফুফের কয়েক কর্মকর্তার হাজিরার বিষয়ে জানতে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীকেও ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ফোন ধরেননি। হাসানকে ফোন দেওয়া হলে তিনিও ফোন ধরেননি। সবার মুখে তালা। তবে হাসান ফেসবুকে খুব গর্ব করে ছবি প্রকাশ করেছেন যে, তিনি ফিফার অফিসে গিয়েছিলেন।
কিন্তু এতগুলো মানুষ কী কারণে ফিফার দপ্তরে গেলেন—তা নিয়ে লুকোচুরি রইল। ফিফা কখনো কোনো দেশের কর্মকর্তাদের তাদের অফিসে ডেকে পাঠায় না। এমনকি কোনো দেশের কর্মকর্তাদের ফিফার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ ফিফার কাছে সদস্য দেশগুলোর কোনো প্রয়োজন থাকলে ইমেইল করলেই হয়। কিংবা ফিফা যদি কোনো প্রয়োজনে কথা বলতে চায়, ইমেইলে যোগাযোগ করে। এবার কী এমন হয়ে গেল যে, ফিফার অফিসের দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে হলো সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ ও তার সঙ্গে জাবের এবং হাসান; যিনি টাকাপয়সার হিসাব রাখেন সেই অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা অনুপমকেও নিয়ে যেতে বাধ্য হলো। এখানে পরিষ্কার—ফিফা হয়তো সোহাগসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করে তাদের অফিসে এসে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তারাও হয়তো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পরিষ্কার জবাব চায়। সোহাগদের ফিফায় যাওয়া-আসা মিলে তিন দিন লেগেছে। ঝটিকা সফর। ফিফার সদর দপ্তরে কাজ শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে বিমানে উঠতে বাধ্য হয়েছেন তারা। কী নিয়ে ফিরেছেন—তা জানার সুযোগ নেই, সেটা গোপনই থাকল।
তবে তাদের অনুপস্থিতি ফুটবল অঙ্গনে ডালপালা ছড়িয়েছে, সমালোচকরা বলছেন—হিসাবের খাতায় গরমিল। সেটা যা-ই হোক। ফিফা গত বছর একটা চিঠি দিয়ে অর্থ খরচের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার কথা জানিয়েছিল। নিয়ম মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছিল। সে কথা সাধারণ সম্পাদক সোহাগ এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী নিজেরাই এক বিকালে সালামের অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন। ফুটবল অঙ্গনের গুঞ্জন যদি সত্যি হয়—তাহলে কি বিত্তশালী সালাম এবং সাধারণ সম্পাদক সোহাগ স্বচ্ছতা মেনে চলেননি বলেই ফিফার কাঠগড়ায় উঠল বাফুফে। রাতে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ফোনে বলেন, আমরাতো আইসিসিতে যাবো না গেলে ফিফায় যাব। সেখানেই গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন হাসান, জাবেদ এবং অনুপম। কেন গিয়েছিলাম পরে জানাবো।