চার বছরেও বিচার অসমাপ্ত

কেমিক্যাল বিস্ফোরণ চুড়িহাট্টা আগের চেহারায়

সবকিছুই চলছে আগের মতোই। পাঁচ তলা ভবনের নিচ তলায় দুটি জেনারেল স্টোর। দোতলায় দুটি ব্যাংক। তিন তলা থেকে ওপরের তলাগুলো ভাড়া দেওয়া হয়নি। খালি পড়ে আছে। এটি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নন্দকুমার দত্ত রোডের ওয়াহেদ ম্যানশন। এই ভবনের দোতলায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘটনার পর ৭১টি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যায়। এর পরই পুরান ঢাকার আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদের ঘোষণা দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মাত্র ৩৩ দিন অভিযান পরিচালনা করে ১৭০টি কেমিক্যাল গোডাউন সিলগালা করা হয়। এরপর অদৃশ্য কারণে সেই অভিযান থেমে যায়। আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এখনো পুরান ঢাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত আড়াই হাজার কেমিক্যাল গোডাউনের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। যে কোনো সময় নিমতলী ট্রাজেডি বা চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির মতো আরো একটি ট্রাজেডি ঘটে যেতে পারে। প্রতি বছর এই ২০ ফেব্রুয়ারি দিনটি এলে শুধু নিহতদের স্মরণে শোকসভা হয়। আর কিছুই হয় না।

চুড়িহাট্টার সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে নিহত জুম্মনের ছেলে আসিফ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ঐ বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন। মামলায় ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে হাসান ও সোহেলের নাম উল্লে­খ করেন। অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দীর্ঘ তিন বছর তদন্ত শেষে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ভবনের মালিকের দুই ছেলে হাসান ও সোহেল এবং কেমিক্যাল গোডাউন পার্ল ইন্টারন্যাশনালের মালিক ইমতিয়াজসহ আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ঐ ঘটনায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিম, ফায়ার সার্ভিস, সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম ও প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। যারা কেমিক্যাল রেখেছিল, কেমিক্যালের মজুত করেছিল, যারা এই মজুতের বিষয়টি তদারকি করেননি—সবাইকে আসামি করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের উৎসস্থল কেমিক্যাল গোডাউন পার্ল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক ইমতিয়াজ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় সাত জনকে। এক জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। বর্তমানে মামলাটির শুনানি চলছে।

এ ব্যাপারে ঢাকার নিম্ন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ মাজহারুল হক বলেন, শুনানি শেষে মামলার চার্জশিট আদালত গ্রহণ করেছে। এখন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। আশা করছি, দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, বৈধ বা অবৈধ যে পথেই কেমিক্যাল আসুক না কেন, কোথায় মজুত করা হচ্ছে, কারা আনছে, কীভাবে পরিবহন করা হচ্ছে, কী কাজে ব্যবহার করছে—সেটা সরকারকে জানানো জরুরি। এ বিষয়ে নজরদারি থাকাও জরুরি।