প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের এখনকার অবস্থান ৯ খেলায় ৯ পয়েন্ট। মাত্র দুই ম্যাচ জিতেছে। আজমপুর ফুটবল ক্লাবকে হারিয়েছে ৬-০ গোলে এবং মুক্তিযোদ্ধাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান। তিন ম্যাচে ড্র করেছে। হেরেছে চার ম্যাচে। পয়েন্ট টেবিলে ১০ দলের মধ্যে মোহামেডান রয়েছে ৭ নম্বরে।
গত ১৮ জানুয়ারি ফর্টিস ক্লাবের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হেরেছে মোহামেডান। পরদিনই ফুটবল টেকনিক্যাল কমিটি বৈঠকে বসে। বৈঠকে ছিলেন সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু, ফজলুর রহমান বাবুল, রিয়াজ, সাব্বির, জোসি, জনি প্রমুখ। কমিটি কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলেন। খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে আলাদা আলাদা করে কথা বলেন। সব আলোচনা শেষে কমিটি ফুটবল ব্যর্থতায় চোখ যায় কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের ওপর। মানিককে না রাখার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।
কমিটির কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বাবুল বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ফুটবল ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ, অধিনায়ক, খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছে। সবাই মানিককে না রাখার পক্ষে। সবাই মানিকের বিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছে। একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে মানিক যদি নিজ ইচ্ছায় চলে যান তাহলেই ভালো। আমরা আমাদের কথা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরকে জানিয়েছি। এখন শুনছি—লিগের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচও নাকি মানিক থাকবেন।’
আরেকটি সূত্রের দাবি—মানিকের সঙ্গে গোলাম আলমগীরের কথা হয়েছে তিনি আরেকটি ম্যাচ পর্যন্ত মানিককে দায়িত্ব পালনের জন্য মত দিয়েছেন। গতকাল অনুশীলনেও মানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মোহামেডানের একাধিক সূত্রের দাবি মানিকের ফুটবল কোচিংয়ে দল সন্তুষ্ট না। তাই সব ব্যর্থতার দায়ভার মানিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানিক যদি শেষ ম্যাচ জিতে যায় তাহলে কি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সেই জবাব পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা সব দায়িত্ব আলমগীরের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। মানিক বলেন, ‘আমার সঙ্গে এক মৌসুমের চুক্তি হয়েছে। আমি চাকরি করছি। আজ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিটিং করেছি তারা তো অভিযোগ করছে না। এখন আমি কাউকে খেলাই না সে তো আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে না। আমিও তো মোহামেডানেরই মানুষ। মোহামেডানের ক্ষতি হলে কি আমার ক্ষতি হয় না। শত্রু তো শুরু থেকেই লেগে আছে। যা-হোক এসব কথা বলার সময় আসেনি। এমন না যে আমাকে বাদ দিয়ে নতুন কোচ নিয়েছে। তা ছাড়া আমাকে চাকরি দিয়েছে চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর ভাই।’
এ বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে এটা ঠিক যে ফুটবলে রেজাল্ট না পাওয়ায় মোহামেডান কর্মকর্তারা মানিকের বদলে নতুন কিছু ভাবছে। গত মৌসুমে শেষ চার ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচ শনলেন চলে গিয়েছিলেন। সেই বিপদের মুহূর্তে মানিক এসে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।