রাবির হলে তালা ভেঙে ছাত্রলীগের কক্ষ দখল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সিলগালা করা তালা ভেঙে কক্ষ দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঐ হলের ১১০ নম্বর কক্ষের সিলগালা করা তালা ভেঙে সেখানে ছাত্রলীগের একজন কর্মীকে তুলে দেওয়া হয়। পরে শনিবার হল কর্তৃপক্ষ কক্ষটি আবার সিলগালা করে দেয়। 

জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কাছে হল প্রাধ্যক্ষ এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেনের অনুসারীরা রাতে তাদের সিলগালা করা তালা ভেঙে ১১০ নম্বর কক্ষে হৃদয় নামের এক শিক্ষার্থীকে তুলে দেয়। পরে শনিবার হৃদয়কে বের করে দিয়ে ঐ কক্ষটি আবারও সিলগালা করা হয়েছে। ঐ কক্ষে একজন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা আছে। সেখানে হলের সবচেয়ে ভালো ফল করে এমন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ও হল প্রশাসনের নির্দেশে কক্ষটি সিলগালা করেছিলাম। ঐ তালা ভাঙা অপরাধ। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হবে। হল প্রশাসন এ বিসয়ে সভা করেছে।’ এ ঘটনায় কারা জড়িত, জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ নাম জানাননি। নাম জানতে চাইলে হলের দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এড়িয়ে যান।

তবে কিছু হলেই হল প্রশাসন তার নাম বলে দেয় বলে দাবি করে নবাব আবদুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক পক্ষ তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ তিনি এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন না, পরে শুনেছেন। বিষয়টির সমাধানও হয়ে গেছে।

হলের একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মুন্না ইসলামকে গালাগাল ও মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরের দিন মুন্না হল প্রশাসনে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘রাত ২টার দিকে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, সহসভাপতি পারভেজ, কর্মী তৌহিদসহ ১০ থেকে ১৫ জন এসে তার বিছানাপত্র কক্ষের বাইরে বারান্দায় ফেলে দেয় এবং তাকে ঘাড় ধরে বাইরে বের করে দেয়। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়। ঐ রাতে অন্য একটি হলের গেস্টরুমে ছিলেন তিনি।