শিগগিরই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৪১টি দেশ। তবে ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ। কেন বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল সে বিষয়ে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক সেহেলি সাবরিন বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবটিতে (রেজুল্যুশন) সংকট সমাধানের জন্য কূটনীতিক যোগাযোগ ও সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ না থাকার কারণে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সংকটের যেকোনো অর্থবহ ও টেকসই সমাধানের জন্য এর সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে দৃঢ় কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংলাপের প্রয়োজন। আমাদের বিবেচনা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটি রেজুল্যুশনে উল্লেখ করা হয়নি। সে কারণে আমরা ভোটদানে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছি।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘ইউএন চার্টার প্রিন্সিপ্যাল আনাডারলাইয়িং এ কমপ্রিহেন্সিভ, জাস্ট অ্যান্ড লাস্টিং পিস ইন ইউক্রেন’ শীর্ষক রেজুল্যুশনটি গৃহীত হয়। এর পক্ষে ভোট পড়ে ১৪১টি, বিপক্ষে ৭টি এবং ভোটদানে বিরত ছিল ৩২টি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ভোটদানে বিরত থাকে। অপরদিকে নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ পক্ষে ভোট দেয়।
সেহেলি সাবরিন বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বেসামরিক লোকদের প্রাণহানি, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং এর ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী সামাজিক-অর্থনৈতিক অবনতিতে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। আমরা সংঘাত থামানোর আহ্বান জানাই এবং যেকোনো মূল্যে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতিসমূহ রক্ষার বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে অবিচল রয়েছি।
তিনি বলেন, ইউক্রেন সমন্বিত, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহরে পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সমাধান যেকোনো পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ব্যতিক্রম ছাড়াই সার্বজনীনভাবে সবার জন্য অবশ্যই একভাবে প্রযোজ্য হবে। আর এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শান্তিমুখী পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে বলে মন্তব্য করেন মুখপাত্র।