অবশেষে স্পার্ম ডোনারকে বৈধ পিতার স্বীকৃতি দিল অস্ট্রেলিয়া

স্পার্ম (শুক্রাণু) ডোনারকে অবশেষে বৈধ পিতার স্বীকৃতি দিল অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট। বুধবার আদালতে এক স্পার্ম ডোনারের কন্যা সন্তানের পিতৃত্ব দাবি নিয়ে করা মামলার রায়ে তাকে বৈধ পিতার স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির হাইকোর্ট। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

জানা যায়, সন্তান না হওয়ায় ২০০৬ সালে এক সমকামী বন্ধুকে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে স্পার্ম (শুক্রাণু) দান করেছিলেন রবার্ট ম্যাসন। এর পরের বছরই তার ডোনেট করা স্পার্ম থেকে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তার বন্ধুর স্ত্রী। তখন থেকেই ম্যাসনকে বাবা বলে ডাকতো সেই কন্যা শিশু। এমনকি ওই শিশুর বোনও ম্যাসনকে বাবা বলেই ডাকে। তবে ২০১৫ সালে শিশুটির মা ওই কন্যা শিশু ও তার সঙ্গীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। 

ওই কন্যা শিশুর পিতৃত্ব দাবি করে বসেন ম্যাসন। এমনকি পিতৃত্বের দাবিতে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলাও করে বসেন। প্রথমে নিম্ন আদালত ম্যাসনের বিপক্ষে রায় দেন। পরে ম্যাসন উচ্চ আদালতে যান। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দেশটির উচ্চ আদালত ম্যাসনের পক্ষে রায় দিয়ে তাকে ওই শিশুর বৈধ পিতার স্বীকৃতি দেন।

আরও পড়ুন:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন টুকু ও সেলিমা রহমান

বুধবার ম্যাসনের পক্ষে রায় দেওয়ার পর আদালত বলেন, যেহেতু ম্যাসনের নাম শিশুটির জন্ম সনদে আছে এবং শিশুটির সঙ্গে তার সম্পর্কও খুবই ঘনিষ্ঠ, সেহেতু তিনিই তার বাবা। ম্যাসন আশা করেছিল, শিশুটির সঙ্গে বসবাস না করলেও তিনি শিশুটির সঙ্গে পিতার ভূমিকা পালন করবেন। তিনি শিশুটির জন্য আর্থিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিষয়ের দেখভালও করে থাকেন। তাই এখন তার এটা বলার অধিকার আছে যে, তার সন্তান কোথায় বসবাস করবে।'

প্রথমে নিম্ন আদালতের রায় ম্যাসনের বিপক্ষে যাওয়া সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ান হাইকোর্টের বিচারক মার্গারেট ক্লেরি বলেন, 'ম্যাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে নিম্ন আদালত ভুল করেছে। শিশুটি অস্ট্রেলিয়ায় থাকবে। কেননা দেশে থাকলে তার বৈধ বাবা তাকে দেখতে পাবেন।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি