নির্বাচনের আগে জি-২০ সম্মেলনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক করবেন মোদির সঙ্গে

আগামী সেপ্টেম্বরে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দ বাজার।

চলতি বছরের ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে বসবে জি-২০ সম্মেলন। শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বিশ্বনেতারা। আয়োজক দেশ হিসেবে বৈঠকের সভাপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ঘরোয়া বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জি-২০ এর সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কারণ উভয় দেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর শেষ বৈঠক হতে পারে এটি।

এদিকে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে তাদের জোর করে ভোটে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, কূটনীতিক কিংবা রাজনীতিকদের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিএনপির দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

অন্যদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচনী বছরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে। যদিও সম্ভাব্য সব নাশকতা প্রতিহত করতে ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

২০২৩ সালের শুরু থেকেই মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রয়াসে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করে আসছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না আসছে, ততক্ষণ কোনো নির্বাচন হবে না। আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছিলেন-আয়োজক দেশ ভারত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি বলেন, জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা এমন একটি ফোরামে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, যেখানে আমাদের সব বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদাররাথাকবেন। আমরা তাদের নানা বিষয় জানতে পারব। একইসঙ্গে আমাদের ইস্যুগুলোও তুলে ধরতে পারব। 

বিশ্বের ১৯টি ধনী দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে জি-২০ গঠিত। সদস্য দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক সংস্থা হিসাবে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

নয়টি গেস্ট কান্ট্রি হলো-বাংলাদেশ, মিসর, মরিশাস, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।