‘এমপিওভুক্তির দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশন’ 

বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকার শিক্ষার জন্য অনেক পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সামান্য ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষকের এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নিচ্ছে না। বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের নেতারা শিক্ষা প্রশাসক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা ঘরে বসে থাকব না। আগামী ১২ মার্চ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে অনশন করব। প্রয়োজনে আমরা আমরণ অনশন করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নানা ধরনের অহিংস আন্দোলন করার পরও আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। আমরা এনটিআরসিএ থেকে সনদধারী। একই প্রতিষ্ঠানে কেউ সরকারি বেতন ভাতা পাবে। একই যোগ্যতা নিয়ে আরেক শিক্ষক অনাহারে দিন কাটাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আমরা আগে যে স্বল্প বেতন পেতাম সেটাও বন্ধ হয়েছে। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির যোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীও কমে গেছে। যার ফলে আমরা সেই বেতনটুকুও পাচ্ছি না। এই শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত করা না হলে এই শিক্ষকরা কোথায় যাবেন? আমরা সামান্য ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষক। আমাদের এমপিওভুক্ত করতে বছরে মাত্র ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয় করলেই বেঁচে থাকার পথ হবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমাদের মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করুন। আমরা পরিবার নিয়ে আর চলতে পারছি না। আমাদের দাবি ১২ মার্চের মধ্যে আদায় না হলে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে অনশন করব। প্রয়োজনে আমরা আমরণ অনশনের ডাক দেবো।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বেসরকারি কলেজগুলো বিধি মোতাবেক নিয়োগ সারাদেশের ৫০০ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষককে জনবলে অন্তর্ভুক্তি না থাকার অজুহাতে দীর্ঘ ১৯ বছর থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধার (এমপিও) বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। করোনা থাকায় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত নামমাত্র বেতনটুকুও বন্ধ থাকার শিক্ষকরা জীবন জীবিকার কঠিন সমীকরণে আটকে গেছে। একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়ে সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষা ক্যাডার/নন-ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে জনবল কাঠামো না থাকার পরও জনবলে না থাকার পরেও কামিল (মাস্টার্স) শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আমরা এনটিআরসিএ সনদধারী হয়েও বঞ্চিত হচ্ছি।

তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালযের বিধি মোতাবেক নির্দেশনা, নবম ও দশম সংসদের স্থায়ী কমিটির সুপারিশ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর অধ্যায় ৮-এ বর্ণিত উচ্চশিক্ষার কৌশল বাস্তবায়ন আমাদের এমপিওভুক্ত করা জরুরি ছিল। তাই আমারা নিরুপায় হয়ে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকোমল সেনসহ আরও অনেক শিক্ষক।